[email protected] রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান, হাইতিকে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু স্কটল্যান্ডের

ক্রীড়া ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ জুন ২০২৬ ১১:০০ এএম

অপেক্ষাটা ছিল দীর্ঘ ২৮ বছরের। এক প্রজন্মের বেশি সময় ধরে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চ থেকে দূরে ছিল স্কটল্যান্ড। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হলো জয় দিয়ে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই জয় তুলে নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে ইউরোপের দলটি।

বোস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে হাইতিকে ১-০ গোলে হারিয়েছে স্কটল্যান্ড। ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে অধিনায়ক জন ম্যাকগিনের পা থেকে। যদিও গোলটিতে ভাগ্যেরও কিছুটা সহায়তা ছিল, তবে জয়ের জন্য স্কটিশদের লড়াইয়ে কোনো ঘাটতি ছিল না।

বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের শেষ উপস্থিতি ছিল ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সে। এরপর একের পর এক ব্যর্থতা, হতাশা আর অপূর্ণতা সঙ্গী হয়েছে দলটির। অবশেষে ২০২৬ বিশ্বকাপে ফিরে এসে প্রথম ম্যাচেই জয় পাওয়ায় উচ্ছ্বসিত স্কটিশ সমর্থকরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই সতর্ক ফুটবল খেলতে থাকে। হাইতি তাদের স্বাভাবিক গতি আর শারীরিক শক্তি দিয়ে স্কটল্যান্ডকে চাপে রাখার চেষ্টা করে। অন্যদিকে বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রেখে ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে থাকে স্কটল্যান্ড।

প্রথম ২০ মিনিটে উল্লেখযোগ্য কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি কোনো দলই। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মাঝমাঠে আধিপত্য বাড়াতে থাকে স্কটিশরা। স্কট ম্যাকটমিনে, বিলি গিলমোর ও জন ম্যাকগিনের সমন্বয়ে আক্রমণের গতি বাড়তে থাকে।

ম্যাচের ২৭তম মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শট নেন অধিনায়ক জন ম্যাকগিন। বলটি হাইতির ডিফেন্ডার রিকার্ডো অ্যাডের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়িয়ে যায়। গোলরক্ষক জনি প্লাসাইড বলের গতিপথ বুঝে ওঠার আগেই সেটি জালে ঢুকে পড়ে।

গোলের পর গ্যালারিতে উপস্থিত হাজারো স্কটিশ সমর্থক আনন্দে ফেটে পড়েন। দীর্ঘদিনের অপেক্ষা শেষে বিশ্বকাপের মঞ্চে তাদের দলের গোল ও এগিয়ে যাওয়ার মুহূর্তটি যেন আবেগে ভাসিয়ে দেয় সবাইকে।

গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে হাইতি। ক্যারিবীয় দেশটির খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির আক্রমণে স্কটল্যান্ডের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। তবে স্কটিশ ডিফেন্ডাররা বেশ গোছানো ফুটবল খেলেছেন। বিশেষ করে গ্রান্ট হ্যানলি ও জ্যাক হেনড্রির জুটি হাইতির আক্রমণভাগকে বেশিরভাগ সময়ই নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়।

বিরতির আগে আরও একটি গোলের সুযোগ পেয়েছিল স্কটল্যান্ড। তবে শেষ মুহূর্তে হাইতির গোলরক্ষক প্লাসাইড গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে ম্যাচে রাখেন।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের চিত্র কিছুটা বদলে যায়। পিছিয়ে পড়া হাইতি আক্রমণের সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়। সমতায় ফেরার জন্য একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে তারা। কয়েকবার স্কটল্যান্ডের রক্ষণভাগও চাপে পড়ে।

তবে ফিনিশিংয়ের অভাবে কাঙ্ক্ষিত গোল পায়নি হাইতি। ম্যাচের শেষ দিকে মার্টিন এক্সপেরিয়েন্সের একটি দূরপাল্লার শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে হতাশ হতে হয় ক্যারিবীয় দলটিকে।

অন্যদিকে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগও পেয়েছিল স্কটল্যান্ড। স্কট ম্যাকটমিনের শক্তিশালী এক শট পোস্টে লেগে ফিরে না এলে হয়তো ম্যাচের ফল আরও স্বস্তিদায়ক হতে পারত স্কটিশদের জন্য।

শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-০ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্টিভ ক্লার্কের দল।

এই জয়ের মাধ্যমে শুধু তিন পয়েন্টই পায়নি স্কটল্যান্ড, ভেঙেছে দীর্ঘদিনের এক দুঃসহ অপেক্ষাও। ১৯৯০ বিশ্বকাপে সুইডেনকে হারানোর পর বিশ্বকাপে এটি তাদের প্রথম জয়। শুধু তাই নয়, ইউরো ১৯৯৬-এর পর কোনো বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে এটিই স্কটল্যান্ডের প্রথম জয় হিসেবেও ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে।

গ্রুপের অন্য ম্যাচে ব্রাজিল ও মরক্কো ১-১ গোলে ড্র করায় তিন পয়েন্ট নিয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে উঠে এসেছে স্কটল্যান্ড। ফলে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার লড়াইয়ে তারা এখন সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

আগামী ১৯ জুন নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মরক্কোর মুখোমুখি হবে স্কটল্যান্ড। একই দিনে হাইতির প্রতিপক্ষ ব্রাজিল। সেই দুই ম্যাচই গ্রুপের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ম্যাচ শেষে স্কটল্যান্ড কোচ স্টিভ ক্লার্ক বলেন, “এই জয় আমাদের জন্য বিশেষ কিছু। দীর্ঘদিন পর বিশ্বকাপে ফিরে জয় পাওয়া অবশ্যই আনন্দের। তবে টুর্নামেন্ট এখনো অনেক বাকি। সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে।”

বিশ্বকাপে প্রত্যাবর্তনের গল্পটা তাই আপাতত সুখেরই। দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষার পর আবারও বিশ্বমঞ্চে জয় পেল স্কটল্যান্ড। এখন দেখার বিষয়, এই জয় তাদের কত দূর নিয়ে যেতে পারে।

 

এসআর

সম্পর্কিত খবর