মরক্কোর সঙ্গে ড্রয়ে শুরু ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযান। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় তুলে নিতে পারল না ব্রাজিল।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘জি’ গ্রুপের ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলের ড্র করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচজুড়ে দুই দলের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠা লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়তে হয়েছে উভয় দলকে।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে প্রত্যাশিত ছন্দে দেখা যায়নি কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিলকে। শুরু থেকেই মাঝমাঠ ও রক্ষণভাগে একের পর এক ভুল পাস এবং সমন্বয়হীনতায় ভুগতে থাকে সেলেসাওরা। লুকাস পাকেতা, কাসেমিরো ও রাইট-ব্যাক ইবানেজের কয়েকটি ভুল মরক্কোকে আক্রমণে ওঠার সুযোগ করে দেয়।
ব্রাজিলের অগোছালো শুরুর সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচের প্রথম গোলটি করে মরক্কো। মাঝমাঠে ব্রাহিম দিয়াজ বল পেয়ে আক্রমণ সাজান। কাসেমিরোর দুর্বল মার্কিংয়ের সুযোগ নিয়ে ইসমাইল সাইবারি ব্রাজিলের দুই ডিফেন্ডারের মাঝখানের ফাঁকা জায়গায় ঢুকে পড়েন। পরে নিখুঁত ফিনিশে গোলরক্ষক আলিসন বেকারকে পরাস্ত করে দলকে এগিয়ে দেন পিএসভি আইন্দহোভেনের এই ফরোয়ার্ড।
গোল হজমের পরও খুব একটা গুছিয়ে উঠতে পারেনি ব্রাজিল। আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের কাছে বল পৌঁছাতে হিমশিম খেতে থাকে দলটি। বিশেষ করে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে দীর্ঘ সময় ম্যাচের বাইরে রেখেছিল মরক্কোর রক্ষণ।
তবে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন সেই ভিনিসিয়ুসই। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্রুনো গিমারায়েসের পাস থেকে বল পেয়ে দুর্দান্ত ড্রিবলিংয়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। এরপর তার ট্রেডমার্ক কোনাকুনি শটে কোনো সুযোগই পাননি মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। ভিনিসিয়ুসের সেই গোলে সমতায় ফেরে ব্রাজিল।
বিরতির পর কিছুটা বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। কার্লো আনচেলত্তি রক্ষণ ও মাঝমাঠে পরিবর্তন এনে দানিলো ও ফাবিনিয়োকে মাঠে নামান। এতে ব্রাজিলের খেলায় শৃঙ্খলা ফিরে আসে এবং পাসিংয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণ দেখা যায়।
অন্যদিকে মরক্কোও দ্বিতীয় গোলের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যায়। ব্রাহিম দিয়াজ, আজেদিন ওনাহি ও ইসমাইল সাইবারিরা কয়েকটি আক্রমণ সাজালেও ব্রাজিলের রক্ষণভাগ সেগুলো সামাল দিতে সক্ষম হয়।
ম্যাচের শেষ দিকে জয়সূচক গোলের খোঁজে মাঠে নামানো হয় মাথিউস কুনিয়া ও লুইজ হেনরিখকে। তবে আক্রমণে কাঙ্ক্ষিত ধার আনতে পারেননি তারা। পুরো ম্যাচে নিজের স্বাভাবিক ছন্দে ছিলেন না রাফিনিয়াও। ফলে শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের সমতা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় দুই দলকে।
ড্র হলেও ম্যাচটি দেখিয়ে দিয়েছে, বিশ্বকাপে বড় কিছু করতে হলে ব্রাজিল ও মরক্কো—দুই দলকেই নিজেদের খেলায় আরও উন্নতি করতে হবে। বিশেষ করে ব্রাজিলকে মাঝমাঠ ও রক্ষণভাগের সমন্বয় নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। অন্যদিকে মরক্কো আবারও প্রমাণ করেছে, সংগঠিত দলগত ফুটবল দিয়ে যে কোনো পরাশক্তিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে তারা সক্ষম।
এসআর