[email protected] মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

২১ বছর পর ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯ জুন ২০২৬ ৯:৫৮ পিএম

সংগৃহীত ছবি

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ।

বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে ৮৬ রানের জয় পেয়েছে স্বাগতিকরা। এর মাধ্যমে দেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়াকে পরাজিত করার কীর্তি গড়ল বাংলাদেশ।

 

মঙ্গলবার মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৮৪ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।

 

জবাবে ব্যাট করতে নেমেই চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। ইনিংসের প্রথম দুই ওভারের মধ্যেই দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারকে হারিয়ে সফরকারীরা বিপর্যয়ে পড়ে যায়।

 

প্রথম ওভারেই পেসার তাসকিন আহমেদ দারুণ এক ডেলিভারিতে ওপেনার ম্যাথিউ শর্টকে শূন্য রানে ফিরিয়ে দেন। এরপর দ্বিতীয় ওভারে মুস্তাফিজুর রহমান এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন মার্নাস লাবুশেনকে। রিভিউয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ উইকেটটি নিশ্চিত করে।

 

শুরুর ধাক্কা সামলানোর চেষ্টা করলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে অস্ট্রেলিয়া। জশ ইংলিস ১৯ রান করে আউট হন, আর অ্যালেক্স ক্যারি ৪৭ রানের ইনিংস খেলে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। তবে বাংলাদেশি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণের সামনে বড় জুটি গড়া সম্ভব হয়নি।

 

অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস যখন ৪২.২ ওভারে ৯ উইকেটে ১৯১ রানে পৌঁছেছে, তখন বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। পরে আর মাঠে খেলা শুরু না হওয়ায় ডিএলএস পদ্ধতিতে বাংলাদেশকে ৮৬ রানের জয়ী ঘোষণা করা হয়।

 

বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে সবচেয়ে সফল ছিলেন তরুণ গতিতারকা নাহিদ রানা। তিনি ৪টি উইকেট শিকার করে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধস নামান। তাসকিন ও মুস্তাফিজও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আঘাত হেনে দলের জয়ে অবদান রাখেন। অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেনও বল হাতে দুটি উইকেট নেন।

 

এর আগে বাংলাদেশের ইনিংসে বড় অবদান রাখেন মোসাদ্দেক হোসেন। দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে ফিরে তিনি খেলেন ক্যারিয়ারসেরা ৮৬ রানের অপরাজিত ইনিংস। ৭০ বলের এই ইনিংসে ছিল কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারি ও ছক্কার মার।

 

তার আগে ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ৫৪ এবং নাজমুল হোসেন শান্ত ৬৭ রান করে দলের ভিত্তি গড়ে দেন। তাদের জুটিতে শুরুতে ভালো অবস্থানে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। যদিও মাঝের দিকে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে স্বাগতিকরা।

 

সেই পরিস্থিতিতে মোসাদ্দেকের দায়িত্বশীল ব্যাটিং এবং শেষ দিকে তাসকিন আহমেদের ২০ রানের কার্যকর ইনিংসে বাংলাদেশ ২৮৪ রানের লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করায়।

 

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন নাথান এলিস, যিনি তিনটি উইকেট নেন। এছাড়া ম্যাট রেনশো ও লিয়াম স্কট দুটি করে উইকেট শিকার করেন।

 

সামগ্রিকভাবে ব্যাটিং, বোলিং ও ম্যাচ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে সিরিজে জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করল বাংলাদেশ। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দেশের মাটিতে ঐতিহাসিক এক সাফল্যের সাক্ষী হলো টাইগাররা।

এসআর

সম্পর্কিত খবর