মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার ওয়ানডে ম্যাচে নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
জয় থেকে মাত্র একটি উইকেট দূরে থাকা অবস্থায় বজ্রপাত ও বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। ম্যাচ আর শুরু না হলে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে বাংলাদেশ ৮৬ রানের ব্যবধানে বিজয়ী হবে।
খেলা বন্ধ হওয়ার সময় অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ছিল ৪২.২ ওভারে ৯ উইকেটে ১৯১ রান। জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন ছিল আরও ৯৪ রান, হাতে ছিল মাত্র একটি উইকেট এবং ৪৬ বল।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৮৪ রান তোলে। দীর্ঘ বিরতির পর জাতীয় দলে ফিরে দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তিনি ৭০ বলে ৮৬ রান করে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ স্কোরার হন। তার ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ৩টি ছক্কা।

ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হাসান তামিমও। শান্ত ৬৭ এবং তামিম ৫৪ রান করে বাংলাদেশের সংগ্রহকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন নাথান ইলস, যিনি তিনটি উইকেট শিকার করেন।
২৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বিপাকে পড়ে সফরকারীরা। ইনিংসের প্রথম বলেই তাসকিন আহমেদের শিকার হন ওপেনার ম্যাথিউ শর্ট।
পরের ওভারেই মোস্তাফিজুর রহমানের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন মার্নাস লাবুশেন।
প্রাথমিক ধাক্কা সামলে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন জশ ইংলিস, কুপার কনোলি, অ্যালেক্স ক্যারি ও ক্যামেরন গ্রিন। তবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকায় অস্ট্রেলিয়া কখনোই ম্যাচে পুরোপুরি ফিরতে পারেনি।
কনোলি ৩৫ ও ক্যারি ৪৭ রান করেন। অন্যপ্রান্তে ক্যামেরন গ্রিন শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে লড়াই চালিয়ে যান এবং খেলা বন্ধ হওয়ার সময় তার সংগ্রহ ছিল ৫২ রান।
এক পর্যায়ে ৪ উইকেটে ১২৮ রান থাকা অস্ট্রেলিয়া দ্রুত ধসে পড়ে। মাত্র ২৮ রানের ব্যবধানে আরও পাঁচটি উইকেট হারিয়ে তারা কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়।
বর্তমানে আবহাওয়ার উন্নতির অপেক্ষায় রয়েছে দুই দল। তবে খেলা পুনরায় শুরু না হলে ডিএলএস হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হবে।
এসআর