ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল প্যারিস সেইন্ট জার্মেইন (পিএসজি)।
হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টের পুসকাস অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে আর্সেনালকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জিতেছে ফরাসি ক্লাবটি।
নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত ৩০ মিনিট শেষে ম্যাচের স্কোর ছিল ১-১। এরপর শিরোপা নির্ধারণে গড়ায় টাইব্রেকার, যেখানে শেষ পর্যন্ত হাসে পিএসজিই।
ম্যাচের শুরুটা ছিল আর্সেনালের স্বপ্নের মতো। মাত্র ৬ মিনিটেই এগিয়ে যায় ইংলিশ ক্লাবটি। বাম দিক দিয়ে দ্রুতগতিতে উঠে এসে দুর্দান্ত এক শটে বল জালে জড়ান কাই হাভার্টজ। গোলরক্ষক মাতভেই সাফোনভের কোনো সুযোগই ছিল না।
গোল হজম করার পর বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখলেও প্রথমার্ধে তেমন কার্যকর আক্রমণ গড়তে পারেনি পিএসজি। অন্যদিকে আর্সেনালও রক্ষণ সামলে পাল্টা আক্রমণের সুযোগ খুঁজছিল।
দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ধীরে ধীরে আক্রমণের চাপ বাড়াতে থাকে পিএসজি। ৬৫ মিনিটে খভিচা কাভারাতসখেলিয়াকে বক্সের ভেতরে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা। স্পটকিক থেকে কোনো ভুল করেননি উসমান দেম্বেলে। তার গোলে ম্যাচে ১-১ সমতা ফেরে।
গোলের পর আরও কয়েকবার আর্সেনালের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করে পিএসজি। ৭৬ মিনিটে কাভারাতসখেলিয়ার দুর্দান্ত একক প্রচেষ্টার শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। শেষ সময়ে বদলি হিসেবে নামা ব্র্যাডলি বারকোলাও দুটি ভালো সুযোগ নষ্ট করেন।
অন্যদিকে আর্সেনালও ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালিয়ে যায়। তবে দুই দলই আর কোনো গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়েও ছিল উত্তেজনা। দুই দলই বেশ কিছু আক্রমণ করলেও নির্ধারিত সময়ে গোল কেউ খুঁজে পায়নি। ফলে শিরোপার ভাগ্য নির্ধারণের দায় পড়ে টাইব্রেকারের ওপর।
টাইব্রেকারে প্রথম শট থেকেই শুরু হয় স্নায়ুচাপের লড়াই। পিএসজির হয়ে গনসালো রামোস গোল করলে জবাব দেন ভিক্টর গিয়োকেরেস। এরপর দেজিরে দুয়ের গোলের পর আর্সেনালের এবেরেচি এজে শট বাইরে মেরে বসেন। যদিও নুনো মেন্দেসের শট ঠেকিয়ে আর্সেনালকে আশা ফিরিয়ে দেন গোলরক্ষক ডেভিড রায়া।
এরপর ডিক্লান রাইস, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি, আচরাফ হাকিমি ও লুকাস বেরালদো নিজেদের শট সফলভাবে জালে পাঠান।
সবশেষে আর্সেনালের পঞ্চম পেনাল্টি নিতে আসেন গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস। কিন্তু চরম চাপের মুহূর্তে তার শট উড়ে যায় ক্রসবারের অনেক ওপর দিয়ে। আর তাতেই নিশ্চিত হয়ে যায় পিএসজির শিরোপা।
এই জয়ের মাধ্যমে টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ট্রফি নিজেদের দখলে রাখল পিএসজি। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ফুটবলে নিজেদের আধিপত্যও আরও শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করল লুইস এনরিকের দল।
অন্যদিকে আর্সেনালের জন্য এটি আরেকটি হৃদয়ভাঙা রাত। দুর্দান্ত লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত ইউরোপের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ক্লাব শিরোপা জয়ের স্বপ্ন পূরণ হলো না মিকেল আর্তেতার দলের।
এসআর