জুমার দিনটি মুসলমানদের কাছে সপ্তাহের সেরা ও বরকতময় দিন। এ দিনে জুমার দুই রাকাত
ফরজ নামাজের পাশাপাশি সুন্নত নামাজ আদায় করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। সাধারণ দিনগুলোতে ফরজ নামাজের পাশাপাশি ১২ রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা আদায়ের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। যার বিনিময়ে জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে (মুসলিম: ৭২৮)।
সাধারণ দিনে যেমন জোহরের আগে ৪ রাকাত ও পরে ২ রাকাত সুন্নত পড়া হয়, তেমনি জুমার দিনেও এই ধারাবাহিকতা রক্ষায় অধিকাংশ আলেমের মতে মোট ৮ রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা আদায় করা হয়।
জুমার দিনের সুন্নত নামাজের হিসাব:
জুমার পূর্বে: ৪ রাকাত সুন্নত।
জুমার পরে: ৪ রাকাত সুন্নত।
তবে কোনো কোনো আলিম জুমার পর ৬ রাকাত (৪ রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা এবং ২ রাকাত সুন্নতে গায়রে মুআক্কাদা বা জায়েদা) পড়াকে উত্তম বলেছেন।
হাদিস ও সাহাবিদের আমলের দলিল:
প্রতিদিনের ১২ রাকাত সুন্নতের ফজিলত: রাসূলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ করেছেন যে, যে ব্যক্তি দিন-রাতে ১২ রাকাত সুন্নত আদায় করবে, তার জন্য জান্নাতে একটি গৃহ নির্মাণ করা হবে (মুসলিম, তিরমিজি)।
জুমার পূর্বে ৪ রাকাতের আমল: বিশিষ্ট সাহাবি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) জুমার ফরজ নামাজের আগে নিয়মিত ৪ রাকাত নামাজ আদায় করতেন (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা)। প্রখ্যাত তাবেয়ি হযরত ইবরাহিম নাখঈ (রহ.) উল্লেখ করেছেন যে, সাহাবায়ে কেরামও জুমার পূর্বে ৪ রাকাত সুন্নত আদায় করতেন।
অতএব, জুমার দিনের এই মহান সুন্নাহগুলো সঠিকভাবে আদায়ের মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবিদের অনুসৃত পথ অনুসরণ করা সম্ভব, যা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে সহায়ক।
এসআর