সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজার মেলায় গিয়ে বেচাকেনা করা বা দোকান বসানো ইসলামে বৈধ
কি না—এ বিষয়ে সম্প্রতি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার মুফতি আব্দুল কাইয়ুম। শরিয়তের বিধান অনুযায়ী এ বিষয়ে বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে।
ধর্মীয় মেলা বনাম বাণিজ্যিক মেলা
ধর্মীয় মেলা: মুফতির মতে, মেলাটি যদি পুরোপুরি অমুসলিমদের ধর্মীয় মেলা হয়, তবে সেখানে যাওয়া বা দোকান বসানো জায়েজ নয়। শরিয়তবিরোধী ও গুনাহের কাজে ভরপুর এমন জমায়েতে আল্লাহর আজাব হতে পারে এবং সেখানে উপস্থিত সবাই তার আওতায় পড়তে পারেন। হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, কেউ কোনো জাতির জমায়েত বড় করলে তাকে সেই জাতির সঙ্গেই গণ্য করা হয়। শুধু দোকান দেওয়ার উদ্দেশ্যে গেলেও জমায়েত বড় হয়, তাই ধর্মীয় মেলায় দোকান না দেওয়াই জরুরি।
বাণিজ্যিক মেলা: মেলাটি যদি ধর্মীয় না হয়ে সম্পূর্ণ ব্যবসায়িক বা বাণিজ্যিক প্রকৃতির হয়, তবে সেখানে যাওয়া, দোকান দেওয়া এবং হালাল বস্তু কেনাবেচা করা জায়েজ। তবে শর্ত হলো, সেখানে নাচ-গান কিংবা অন্য কোনো গুনাহের কাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়া যাবে না।
কেনাবেচার ক্ষেত্রে যেসব বিষয় বৈধ ও নিষিদ্ধ
অমুসলিমদের মেলায় গিয়ে সব ধরনের জিনিস লেনদেন করা নিষিদ্ধ নয়, এর কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে:
যা বিক্রি করা জায়েজ: ছবিহীন শিশুদের খেলনা এবং হালাল খাবার বিক্রির অনুমতি রয়েছে। কোনো বস্তু নিজে হালাল হলে, তা শুধু অমুসলিমদের মেলায় বিক্রি হচ্ছে—এই যুক্তিতে তাকে হারাম বলা যাবে না।
যা বিক্রি করা নিষিদ্ধ: অমুসলিমদের সরাসরি ধর্মীয় কাজে ব্যবহৃত হয় এমন জিনিস কিংবা তাদের উৎসব, বিজাতীয় সংস্কৃতি ও শরিয়তবিরোধী কাজে লাগে—এমন সামগ্রী বিক্রি করা সম্পূর্ণ নাজায়েজ।
পরিশেষে জানানো হয়েছে, বৈধ পণ্য হলেও এ ধরনের মেলায় দোকান দেওয়ার মাধ্যমে অমুসলিমদের শান-শওকত বৃদ্ধি পায়। তাই এ ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশে কেনাবেচা ও ব্যবসা থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়।
এসআর