মানুষের জীবন মানেই সংগ্রাম, নানা পরীক্ষা ও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হওয়া। এই বাস্তবতার
পাশাপাশি মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা, অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো এবং ধৈর্য ও দয়ার চর্চার গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছে পবিত্র কোরআনের সুরা বালাদ। সুরাটিতে মহান আল্লাহ মানুষের ওপর তাঁর দেওয়া নানা নিয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে কল্যাণের কঠিন পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
পবিত্র কোরআনের ৯০তম এই সুরাটিতে মোট ২০টি আয়াত রয়েছে। সুরা বালাদে প্রধানত মানুষের জীবনসংগ্রাম, আল্লাহর নেয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং পরকালের জবাবদিহির বিষয়গুলো বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
সুরাটির চতুর্থ আয়াতে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন, ‘নিশ্চয়ই আমি মানুষকে কষ্ট ও পরিশ্রমের মধ্যে সৃষ্টি করেছি।’ এই আয়াত মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, পার্থিব জীবনে বাধা-বিপত্তি আসবেই। তাই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে হতাশ না হয়ে ধৈর্য ও দৃঢ়তার সঙ্গে সব সংকট মোকাবিলা করা আবশ্যক।
সুরা বালাদে আল্লাহ মানুষকে চোখ, জিহ্বা ও দুটি ঠোঁট দেওয়ার পাশাপাশি ভালো ও মন্দের পথও স্পষ্ট করে দিয়েছেন। এসব আয়াত মানুষকে মহান আল্লাহর নিয়ামত উপলব্ধি করা এবং সেগুলোর সঠিক ব্যবহারের শিক্ষা দেয়। মানুষের উচিত তার নিজের সামর্থ্য ও সুযোগকে সবসময় সৎ ও কল্যাণকর কাজে নিয়োজিত করা।
সুরাটির ১১ থেকে ১৬ নম্বর আয়াতে ‘কঠিন পথ’ অতিক্রম করার কথা বলা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে দাস মুক্ত করা, আকালের সময় ক্ষুধার্তকে অন্ন দেওয়া, নিকটাত্মীয় এতিম ও নিঃস্ব-দরিদ্রদের সহায়তা করা। এই নির্দেশনাসমূহ থেকে স্পষ্ট হয় যে, প্রকৃত ধর্মীয় কল্যাণ কেবল ব্যক্তিগত ইবাদতেই সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘব করা এবং সামাজিক দায়িত্ব পালন করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
এ ছাড়া সুরাটির ১৭ নম্বর আয়াতে ঈমানদারদের পারস্পরিক ধৈর্য ও দয়ার উপদেশ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অর্থাৎ, নিজে সৎ কাজ করার পাশাপাশি অন্যকেও ভালো কাজে উৎসাহিত করা এবং মানবজাতির প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া একজন মুমিনের অন্যতম দায়িত্ব।
এসআর