[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

হরর কনটেন্ট ও বাদ্যযন্ত্র শোনা নিয়ে ইসলামি নির্দেশিকা

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ৭:১৪ এএম

সংগৃহীত ছবি

বর্তমান সময়ে হরর মুভির কাহিনি কিংবা এর সারসংক্ষেপ (এক্সপ্লানেশন) শোনার প্রতি

 অনেকেরই আগ্রহ দেখা যায়। তবে এসব কনটেন্টে ব্যবহৃত ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক এবং কাল্পনিক গল্পের নেতিবাচক প্রভাব এড়িয়ে চলতে ইসলামে কিছু স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

​বাদ্যযন্ত্র ব্যবহারের বিধান

বিশেষ করে হরর কনটেন্টে ভয় ও উত্তেজনা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক বা বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ইসলামি আলেমদের মতে, মিউজিক ও বাদ্যযন্ত্র শোনার বিষয়ে স্পষ্ট বিধিনিষেধ রয়েছে। এ বিষয়ে সহিহ বুখারির ৫৫৯০ নম্বর হাদিসে বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার এবং তা বৈধ মনে করার প্রবণতা সম্পর্কে কঠোর সতর্কতা উচ্চারণ করা হয়েছে।

​বিশ্বাস ও আকিদার সুরক্ষা

হরর সিনেমায় প্রায়ই ভূত, আত্মা, জাদু বা বিভিন্ন অতিপ্রাকৃত শক্তির কাল্পনিক চিত্র প্রদর্শিত হয়। এসব কাহিনিকে বাস্তব ধর্মীয় বিশ্বাস হিসেবে গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। বিশেষ করে যেসব কনটেন্টে শিরক বা কুফরিসংক্রান্ত ধারণা তুলে ধরা হয়, তা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে দেখা উচিত। তবে কেবল কাল্পনিক গল্প শুনলেই কেউ গুনাহগার হয়ে যাবেন—এমন ঢালাও সিদ্ধান্ত সব ক্ষেত্রে দেওয়া যায় না।

​অনর্থক বিষয় ত্যাগ ও মানসিক প্রশান্তি

ইসলামে সময় নষ্টকারী ও অপকারী বিষয় থেকে দূরে থাকার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনের সুরা আল-মুমিনুনের ৩ নম্বর আয়াতে সফল মুমিনদের অন্যতম গুণ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ‘আর যারা অনর্থক বিষয় থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখে।’

​হরর কাহিনির প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি মনে অহেতুক ভয়, অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে এবং ইবাদতে মনোযোগ ব্যাহত করতে পারে। তাই এ ধরনের কনটেন্ট যদি মানসিক প্রশান্তি বা ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তবে তা পরিহার করাই উত্তম।

​উপকারী বিকল্প চর্চা

দৈনন্দিন কাজের ফাঁকে বা অবসর সময়ে অনর্থক বিষয়ের বদলে নবী-রাসুলদের জীবনী, সিরাত চর্চা, কোরআনের তাফসির কিংবা অন্যান্য শিক্ষামূলক আলোচনা শোনা যেতে পারে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন মন প্রশান্ত থাকে, অন্যদিকে অবসর সময়টিকেও অর্থবহ ও দ্বীনি কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হয়।

এসআর

সম্পর্কিত খবর