সময় ব্যবস্থাপনা বা টাইম ম্যানেজমেন্ট হলো প্রতিটি কাজের জন্য সময় সুনির্দিষ্টভাবে
পরিকল্পনা ও ভাগ করে নেওয়ার একটি প্রক্রিয়া। সঠিক সময় ব্যবস্থাপনার ফলে কঠোর পরিশ্রম না করেও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কম সময়ে দ্বিগুণ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। দৈনন্দিন জীবনে সময়ের বরকত বৃদ্ধি ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর জন্য বিশেষজ্ঞদের ১০টি কার্যকর পরামর্শ নিচে তুলে ধরা হলো:
সাফল্য অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট লক্ষ্য থাকা জরুরি। নিজেকে সফল হিসেবে কল্পনা করা এবং কাজের লক্ষ্য মনে গেঁথে নেওয়া অর্জনের প্রথম ধাপ হিসেবে কাজ করে।
সব কাজ একসঙ্গে করতে গেলে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায়। তাই নিজের ক্ষমতা ও সময়ের সীমাবদ্ধতা বুঝে অপ্রয়োজনীয় বা অতিরিক্ত প্রস্তাব বা কাজের অনুরোধে 'না' বলতে শেখা অন্যতম বড় কৌশল।
একসঙ্গে অনেক কাজ করার চেষ্টা না করে একটির পর একটি কাজ শেষ করার পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত। এতে কাজের গতি ও গুণগত মান উভয়ই বৃদ্ধি পায়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় অযথা সময় কাটানো বন্ধ করলে প্রচুর অতিরিক্ত সময় বাঁচানো সম্ভব, যা অন্যান্য দরকারী কাজে ব্যবহার করা যায়।
সব কাজ সমান জরুরি নয়। প্রতিদিনের কাজের একটি তালিকা তৈরি করে সেখান থেকে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে আগে শেষ করতে হবে।
প্রতিটি কাজের জন্য ক্যালেন্ডার বা ডায়েরিতে নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ রাখুন। এর মাধ্যমে অন্যের চাহিদায় পুরো দিন এলোমেলো হয়ে যাওয়া রোধ করা সম্ভব হয়।
কর্মস্থলে যাওয়া-আসার পথে বা কোনো লাইনে অপেক্ষার সময় নোট করা, নতুন ধারণা লিখে রাখা বা মনকে রিফ্রেশ করার মাধ্যমে অপচয় হওয়া সময়কে সদ্ব্যবহার করা যায়।
কাজের মাঝে বিরতি নেওয়া, দুপুরের খাবার শান্তিতে খাওয়া এবং স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা কর্মশক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে। শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক সতেজতা না থাকলে কাজের কার্যকারিতা কমে যায়।
নিজের ক্ষমতার বাইরে অবাস্তব লক্ষ্য নির্ধারণ করলে ব্যর্থতার হতাশা বাড়ে। যেকোনো কাজের দায়িত্ব নিয়ে ভেবেচিন্তে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা করা প্রয়োজন।
নিজের চেয়ে অন্য কেউ যদি কোনো কাজ দ্রুত ও ভালোভাবে সম্পন্ন করতে পারেন, তবে তার ওপর সেই দায়িত্ব ছেড়ে দিন। এতে নিজের গুরুত্বপূর্ণ কাজে বেশি মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
এসআর