[email protected] রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রকৃত লাভের তথ্য গোপন করে পণ্য বিক্রি ও এর শরিয়তের বিধান

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭:৪০ এএম

সংগৃহীত ছবি

অনেক সময় বিক্রেতারা বেশি লাভ করা সত্ত্বেও ক্রেতার কাছে কম লাভের কথা বলে মিথ্যা দাবি

 করেন। ক্রয়-বিক্রয়ে অতিরিক্ত লাভের কথা গোপন রাখা বা ভুল তথ্য দেওয়া মিথ্যাচার ও ধোঁকাবাজির শামিল, যা ইসলামের দৃষ্টিতে একটি বড় বা কবিরা গুনাহ। ইসলামে সততার সঙ্গে ব্যবসা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং মিথ্যা বলা থেকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

​হাদিস শরিফে সততার গুরুত্ব ও ব্যবসার শুভপরিণাম নিয়ে বর্ণনা এসেছে:

  • ​হাকিম ইবনে হিজাম (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, "যদি ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ে সত্য বলে এবং পণ্যের দোষ-ত্রুটি স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে, তবে তাদের কেনাবেচায় বরকত দান করা হয়। আর যদি তারা মিথ্যা বলে ও তথ্য গোপন করে, তবে তাদের কেনাবেচার বরকত নষ্ট হয়ে যায়।" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২১১০)
  • ​রিফাআ (রা.) থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, "কিয়ামতের দিন ব্যবসায়ীদের ফাসেক বা পাপী হিসেবে উত্থাপিত করা হবে। তবে যারা আল্লাহকে ভয় করে, সততার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করে এবং সর্বদা সত্য কথা বলে, তারা এর ব্যতিক্রম।" (জামে তিরমিজি, হাদিস: ১২১০)

​ব্যবসায় কত টাকা লাভ হলো তা ক্রেতার কাছে প্রকাশ করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। বিক্রেতা চাইলে লাভের পরিমাণ উল্লেখ না করেই পণ্যটি একটি নির্দিষ্ট দামে বিক্রি করতে পারেন। তবে যদি তিনি নির্দিষ্ট পরিমাণ লাভের মিথ্যা দাবি করেন, তবে সেটি মারাত্মক অপরাধ ও গুনাহের কারণ হবে।

​যদিও মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিক্রি করার ফলে বিক্রেতা গুরুতর গুনাহগার হবেন, তবুও ফিকহি বিধান অনুযায়ী বাহ্যিক বিচারে সেই কেনাবেচা বা লেনদেনটি বাতিল বা নাজায়েজ হয়ে যাবে না।

এসআর

সম্পর্কিত খবর