সুরা আহকাফের ১৫ নম্বর আয়াতে চল্লিশ বছর বয়সকে মানুষের মানসিক ও অনুভূতির পূর্ণতার
একটি বিশেষ পর্যায় হিসেবে নির্দেশ করা হয়েছে। তাফসিরবিদদের মতে, এ বয়সে মানুষের প্রজ্ঞা, সহনশীলতা ও উপলব্ধি পরিপক্বতা লাভ করে। ৪২০ বছর বয়সে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর ওহি নাজিল হওয়া এ বয়সের গুরুত্ব ও দায়িত্ববোধ বৃদ্ধির বিশেষ বার্তা বহন করে। এই বয়সে একজন মানুষ তাঁর স্রষ্টার প্রতি কৃপাদৃষ্টি ও নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং নিজের ও সন্তানদের সৎকর্মশীলতার জন্য দোয়া করেন।
শারীরবৃত্তীয়, চিকিৎসা ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতেও চল্লিশ বছর বয়সের বিশেষ প্রভাব রয়েছে। প্রবাদ রয়েছে যে, এ সময় থেকে মানুষের শরীরের স্বাভাবিক প্রাণশক্তি ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে থাকে এবং শারীরিক দুর্বলতা বা রোগব্যাধির ঝুঁকি তৈরি হয়। পুরুষ ও নারী উভয়ক্ষেত্রেই এ বয়সে বিভিন্ন শারীরিক ও হরমোনজনিত পরিবর্তন দেখা দেয়। ফলে অবয়বে বার্ধক্যের ছাপ, চুলে পাক ধরা, বলিরেখা এবং কখনো কখনো খিটখিটে মেজাজ বা অবসাদ তৈরি হতে পারে।
একইসঙ্গে চল্লিশের মধ্য দিয়ে জীবনের অভিজ্ঞতা ও দায়িত্বের পরিসর নতুনভাবে প্রসারিত হয়। আয়নায় নিজের চেহারার পরিবর্তন, পেছনের ভুলত্রুটি ও অতীত সিদ্ধান্তের মূল্যায়ন এবং আগামী দিনের জন্য আত্মিক পরিশুদ্ধির চেষ্টা মানুষকে আরও বাস্তববাদী ও স্থিতিশীল করে তোলে।
এসআর