[email protected] রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬
১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

মুমিনের যে তিন আমলে মহান আল্লাহ সন্তুষ্ট হন ও হাসেন

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১ আগষ্ট ২০২৬ ৮:৩৪ পিএম

সংগৃহীত ছবি

একজন মুমিনের জীবনের মূল লক্ষ্য হলো মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। কুরআন ও সহিহ

 হাদিসে এমন বহু আমলের বর্ণনা রয়েছে যা আল্লাহর নৈকট্য লাভে সাহায্য করে। বিশেষ কিছু সহিহ হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্দিষ্ট তিনটি বিশেষ আমল দেখে মহান আল্লাহ তাঁর শান ও মর্যাদার উপযোগীভাবে হাসেন এবং অত্যন্ত সন্তুষ্ট হন। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা অনুযায়ী, আল্লাহর এই গুণসমূহকে কোনো বিকৃতি বা তুলনামূলক রূপ না দিয়ে বিশ্বাস করা প্রতিটি মুসলিমের কর্তব্য।

​সহিহ হাদিসের আলোকে মহান আল্লাহর বিশেষ প্রীতি ও সন্তুষ্টির কারণ হিসেবে তিনটি প্রধান আমল চিহ্নিত করা হয়েছে:

​১. মেহমানকে নিজের চেয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া: ক্ষুধার্ত ও অভাবগ্রস্ত মেহমানকে নিজের প্রয়োজনের ওপর প্রাধান্য দেওয়া ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত মর্যাদাশীল আমল। এক আনসারি সাহাবি ও তাঁর স্ত্রীর নিজেদের রাতের খাবার না খেয়ে মেহমানকে আপ্যায়ন করার ঘটনায় মহান আল্লাহ অত্যন্ত সন্তুষ্ট হন, যা পরবর্তীকালে সুরা আল-হাশরের ৯ নম্বর আয়াতে প্রশংসিত হয়েছে।

​২. আরামের বিছানা ছেড়ে তাহাজ্জুদে দাঁড়ানো: গভীর রাতে নিজের ঘুম, আরাম এবং প্রিয়জনের সান্নিধ্য ত্যাগ করে যারা একান্তে আল্লাহর দরবারে ইবাদতে মশগুল হন, আল্লাহ তাদের প্রতি বিশেষ করুণা করেন ও সন্তুষ্ট হন। কুরআনেও তাহাজ্জুদ আদায়কারীদের প্রশংসায় সুরা আস-সাজদাহর ১৬ নম্বর আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে।

​৩. কঠিন পরিস্থিতিতে সত্য ও ন্যায়ের পথে অটল থাকা: জীবনের প্রতিটি প্রতিকূলতা বা সত্যের সংগ্রামে আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখে অবিচল থাকা মুমিনের অন্যতম গুণ। শত্রুর মুখোমুখি হয়ে বীরত্বের সঙ্গে টিকিয়া থাকা কিংবা চরম বিপদেও সত্যের পথ না ছাড়ার মানসিকতাকে আল্লাহ অত্যন্ত পছন্দ করেন।

​দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী প্রশংসার পেছনে না ছুটে আন্তরিকতা, আত্মত্যাগ এবং একনিষ্ঠ ইবাদতের মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করাই মুমিনের প্রকৃত সফলতা। অতিথি পরায়ণতা, নিয়মিত তাহাজ্জুদের অভ্যাস এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে সত্যের ওপর অবিচল থাকার মাধ্যমে এই চিরস্থায়ী কল্যাণ লাভ করা সম্ভব।

এসআর

সম্পর্কিত খবর