[email protected] শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
২৬ আষাঢ় ১৪৩৩

ইসলামে বদনজর: বাস্তবতা, লক্ষণ ও মুক্তির শরয়ি উপায়

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ জুলাই ২০২৬ ৯:৫৯ এএম

সংগৃহীত ছবি

মানুষের জীবনে সুখ-দুঃখ, সুস্থতা ও অসুস্থতা আল্লাহ তাআলার নির্ধারিত বিধানের অংশ।

 ইসলামে বদনজরকে (আল-আ’ইন) কোনো কুসংস্কার বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়নি; বরং কুরআন ও সহিহ হাদিসে এর বাস্তবতা স্পষ্টভাবে স্বীকৃত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বিভিন্ন হাদিসে ঘোষণা করেছেন যে, ‘বদনজর সত্য’ এবং তিনি এর অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে ইসলাম একই সঙ্গে শিক্ষা দেয় যে, সবকিছুই আল্লাহর ইচ্ছায় ঘটে এবং তাঁর অনুমতি ছাড়া কোনো ক্ষতি বা উপকার সম্ভব নয়। তাই বদনজর নিয়ে অমূলক ভয় বা কুসংস্কারে না ভুগে কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা অনুসরণ করাই মুমিনের দায়িত্ব।

​শরিয়তে এমন কোনো নির্দিষ্ট তালিকা নেই, যার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে কারো বদনজর লেগেছে। তবে সহিহ হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির বা শিশুর আচমকা অস্বাভাবিক শারীরিক দুর্বলতা, চেহারা মলিন হয়ে যাওয়া বা আকস্মিক পরিবর্তন বদনজরের লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে রাসুলুল্লাহ (সা.) সন্তানদের জন্য শরঈ ঝাড়ফুঁক বা রুকইয়াহ করার অনুমতি দিয়েছেন। তবে কোনো উপসর্গ দেখা দিলেই নিশ্চিতভাবে বদনজর হয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া সঠিক নয়। যেকোনো শারীরিক অসুস্থতায় প্রচলিত চিকিৎসার পাশাপাশি আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে সুন্নাহসম্মত উপায় অবলম্বন করা উচিত।

​বদনজর থেকে সুরক্ষা ও প্রতিকারের জন্য ইসলামে বেশ কিছু কার্যকর আমল রয়েছে। এর মধ্যে নিয়মিত সূরা ফালাক ও সূরা নাস পাঠ করে আল্লাহর আশ্রয় নেওয়া অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। এছাড়া সহিহ মুসলিমে বর্ণিত জিবরিল (আ.)-এর শেখানো বিশেষ দোয়া—“বিসমিল্লাহি আরক্বিকা, মিন কুল্লি শাই'ইন ইউ’জিকা...” পড়ে আক্রান্ত ব্যক্তিকে ঝাড়ফুঁক করা যায়। যদি নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে ঠিক কার বদনজর লেগেছে, তবে সুন্নাহ অনুযায়ী সেই ব্যক্তিকে অজু বা গোসল করতে বলা হবে এবং সেই ধোয়া পানি আক্রান্ত ব্যক্তির ওপর ঢেলে দিয়ে চিকিৎসার বিধান রয়েছে।

​অন্যদিকে, বদনজর দূর করার নামে সমাজে প্রচলিত বিভিন্ন কুসংস্কার, যেমন—পশুর হাড় ঝুলিয়ে রাখা, তাবিজকে স্বয়ংসম্পূর্ণ বা নিজে নিজে কার্যকর মনে করা, সোনা-রূপা ধোয়া পানি পান করাকে সুন্নাহ মনে করা ইত্যাদির কোনো শরয়ি ভিত্তি নেই। একজন মুসলিমের উচিত ক্ষতিকর কুসংস্কার ও লোকজ বিশ্বাস পরিহার করে কেবল কুরআন, সহিহ হাদিস এবং বৈধ রুকইয়াহর ওপর নির্ভর করা। কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখে মাসনুন দোয়ার মাধ্যমে তাঁর বিশেষ নিরাপত্তা কামনা করাই ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা।

এসআর

সম্পর্কিত খবর