[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
২৫ আষাঢ় ১৪৩৩

ইসলামে বদনজরের ধারণা কতটা সত্য? লক্ষণ ও করণীয় সম্পর্কে যা জানা জরুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৯ জুলাই ২০২৬ ৯:৪০ পিএম

সংগৃহীত ছবি

ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী মানুষের জীবনে সুখ-দুঃখ, রোগ-ব্যাধি কিংবা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা সবই মহান আল্লাহর ইচ্ছা ও ফয়সালার অংশ।

এসব পরীক্ষার একটি মাধ্যম হতে পারে বদনজর (আল-আ'ইন)। তবে ইসলাম স্পষ্টভাবে শিক্ষা দেয়, আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোনো কিছুই মানুষের ক্ষতি বা উপকার করতে পারে না।


বদনজর সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি
কুরআন ও সহিহ হাদিসে বদনজরের অস্তিত্বের কথা উল্লেখ রয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "বদনজর সত্য।" (সহিহ মুসলিম, আবু দাউদ)
আরেক হাদিসে তিনি মুমিনদের বদনজর থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনার নির্দেশ দিয়েছেন এবং বলেছেন যে বদনজরের বাস্তবতা রয়েছে। (ইবন মাজাহ)
বদনজর লেগেছে কি না বোঝার উপায়
শরিয়তে এমন কোনো নির্দিষ্ট লক্ষণের তালিকা নেই, যার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে কারও বদনজর লেগেছে।

 

তবে হাদিসে এমন কিছু ঘটনার উল্লেখ আছে, যেখানে রাসুলুল্লাহ (সা.) কিছু ব্যক্তি বা শিশুর ক্ষেত্রে বদনজরের প্রভাবের কথা বলেছেন এবং তাদের জন্য শরয়িসম্মত ঝাড়ফুঁকের নির্দেশ দিয়েছেন। (বুখারি, মুসলিম)
এ কারণে কারও হঠাৎ অসুস্থতা, দুর্বলতা বা অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলেই তা বদনজরের ফল—এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া ঠিক নয়।

প্রথমে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া উচিত। পাশাপাশি আল্লাহর কাছে দোয়া ও শরয়িসম্মত রুকইয়াহ করা যেতে পারে।


বদনজর থেকে বাঁচতে করণীয়
ইসলামী শিক্ষায় কয়েকটি আমলের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে—


নিয়মিত সূরা আল-ফালাক ও সূরা আন-নাস তিলাওয়াত করা।
হাদিসে বর্ণিত মাসনুন দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া।
বৈধ রুকইয়াহ বা কুরআন-হাদিসভিত্তিক ঝাড়ফুঁক করা।


সহিহ হাদিসে আরও এসেছে, যদি নিশ্চিতভাবে জানা যায় কার বদনজরের প্রভাব পড়েছে, তাহলে সেই ব্যক্তিকে অজু বা গোসল করতে বলা হবে এবং সেই পানি আক্রান্ত ব্যক্তির ওপর ঢেলে দেওয়া যেতে পারে।

(আবু দাউদ, মুসনাদ আহমাদ)
যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে
বদনজর দূর করার নামে সমাজে প্রচলিত অনেক কুসংস্কারের শরয়ি ভিত্তি নেই। যেমন—
পশুর হাড় বা বিশেষ বস্তু ঝুলিয়ে রাখা,
কোনো তাবিজকে নিজস্ব ক্ষমতাসম্পন্ন মনে করা,
সোনা বা রূপা ধোয়া পানি পান করাকে সুন্নাহ দাবি করা,
লোকজ বিশ্বাস বা ভিত্তিহীন আচার অনুসরণ করা।
এসবের পরিবর্তে কুরআন, সহিহ হাদিস এবং বৈধ রুকইয়াহর ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দিয়েছে ইসলাম।


ইসলামে বদনজরের বাস্তবতা স্বীকৃত হলেও এটি নিয়ে অতিরিক্ত ভয়, সন্দেহ বা কুসংস্কারে জড়িয়ে পড়ার সুযোগ নেই। কোনো অসুস্থতা বা সমস্যার ক্ষেত্রে চিকিৎসার পাশাপাশি আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে কুরআন তিলাওয়াত, মাসনুন দোয়া ও শরয়িসম্মত রুকইয়াহর মাধ্যমে তাঁর সাহায্য কামনা করাই একজন মুসলিমের জন্য উত্তম পথ।

এসআর

সম্পর্কিত খবর