[email protected] সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
১৫ আষাঢ় ১৪৩৩

দাম্পত্যে বিশ্বাসভঙ্গ ও উত্তরণের উপায়: ইসলামের নির্দেশনা ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৯ জুন ২০২৬ ১১:১০ এএম

সংগৃহীত ছবি

বিবাহ কেবল একটি সামাজিক বন্ধনই নয়, বরং এটি পারস্পরিক বিশ্বাসের এক পবিত্র আমানত।

 পবিত্র হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী, দাম্পত্য জীবনে একে অপরের চরিত্র হেফাজত ও বিশ্বাস রক্ষার মাধ্যমে শান্তিময় জীবনযাপন করা প্রত্যেকের ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্ব। তবে অনেক সময় ভুল বা ইচ্ছাকৃত অবহেলায় এই সম্পর্কের আমানতের খেয়ানত ঘটে, যা ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ নাজায়েজ এবং এটি আল্লাহর হকের পাশাপাশি পবিত্র বন্ধনের ওপর এক বড় আঘাত।

সৌদি আরবের প্রখ্যাত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. খালিদ বিন মুহাম্মদ আশ-শাহরির মতে, সম্পর্কে তিল থেকে তাল না বানিয়ে প্রথমে বুঝতে হবে কোনটি অনিচ্ছাকৃত ভুল আর কোনটি ইচ্ছাকৃত বিশ্বাসভঙ্গ। দাম্পত্যে এই খেয়ানতের পেছনে সাধারণত কোনো এক পক্ষ এককভাবে দায়ী থাকে না, বরং এর পেছনে বহুবিধ মনস্তাত্ত্বিক ও পারিপার্শ্বিক কারণ লুকিয়ে থাকে।

​বিশেষজ্ঞদের মতে, দাম্পত্যে বিশ্বাসভঙ্গের অন্যতম কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে—সঙ্গীর কাছ থেকে আবেগ ও ভালোবাসার ঘাটতিজনিত শূন্যতা, পুরোনো সম্পর্কের স্মৃতি, সন্তান বা ঘরের কাজে ডুবে গিয়ে স্ত্রীদের নিজের প্রতি আকর্ষণ হারিয়ে ফেলা, দীর্ঘদিনের দূরত্ব ও কর্মব্যস্ততা, এবং পারস্পরিক অসম্মান। এছাড়া কুসংসর্গ, পর্নোগ্রাফিতে আসক্তি, চরিত্রের দুর্বলতা, ধর্মীয় অনুশাসনের অভাব, মাদকাসক্তি এবং বৈবাহিক জীবনের দায়িত্ব সম্পর্কে সঠিক শিক্ষার অভাব সম্পর্ককে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়।

বিশেষ করে, যখন কোনো পুরুষ স্ত্রীকে কেবল ঘরের দাসী ভাবেন কিংবা কোনো নারী স্বামীকে শুধু অর্থ উপার্জনের মাধ্যম মনে করেন, তখন সম্পর্ক ভালোবাসার বদলে শাসনযন্ত্রে রূপ নেয়। তাই যেকোনো চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়ার আগে এই মূল কারণগুলো খুঁজে বের করা জরুরি।

​দাম্পত্য জীবনে এমন চরম বিশ্বাসঘাতকতার মুখোমুখি হলে, বিশেষত স্ত্রীরা ভিক্টিম হলে, আবেগতাড়িত হয়ে হুটহাট তালাকের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। এর বদলে পরিবারের কোনো অভিজ্ঞ মুরুব্বি বা ফ্যামিলি থেরাপিস্টের পরামর্শ নিয়ে সম্পর্কের সমস্যাগুলো খতিয়ে দেখা শ্রেয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সঠিক আন্তরিকতা, আত্মসমালোচনা ও ক্ষমার মাধ্যমে সম্পর্ক আগের চেয়েও শক্তিশালী ও সচেতনভাবে পুনর্গঠন করা সম্ভব।

যখন স্বামী-স্ত্রী উভয়েই নিজেদের অধিকার ও দায়িত্ব বুঝতে পারেন, পারস্পরিক ভুলত্রুটি উপেক্ষা করে ক্ষমাশীল হন এবং একে অপরকে খুশি করার মানসিকতা তৈরি করেন, তখনই সম্পর্ক আবার সঠিক ট্র্যাকে ফিরে আসে। দিনশেষে, গভীরতম এই মানবিক বন্ধন টিকিয়ে রাখতে পারস্পরিক সম্মান, ছাড় এবং মমতার কোনো বিকল্প নেই।

এসআর

সম্পর্কিত খবর