[email protected] শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
১২ আষাঢ় ১৪৩৩

পবিত্র আশুরা: ত্যাগ, শোক ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে চিরন্তন প্রতিবাদের দিন

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ জুন ২০২৬ ৭:৩১ এএম

সংগৃহীত ছবি

ইসলামী ইতিহাসে ১০ই মহররম তথা ‘আশুরা’ ত্যাগ, শোক এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে অনমনীয় প্রতিবাদের এক অবিস্মরণীয় দিন। হিজরি বর্ষের

 প্রথম মাসের এই দিনটি মুসলিম উম্মাহর ধর্মীয়, আধ্যাত্মিক ও ঐতিহাসিক জীবনে গভীর তাৎপর্য বহন করে। মানব ইতিহাসের বহু গুরুত্বপূর্ণ ও অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী এই পবিত্র দিনে মহান আল্লাহ ফেরাউনের অত্যাচার থেকে হযরত মুসা (আ.) ও বনী ইসরাইলকে অলৌকিকভাবে মুক্তি দিয়েছিলেন এবং লোহিত সাগরে ডুবিয়ে ধ্বংস করেছিলেন অহংকারী ফেরাউনকে। আল্লাহর এই অনুগ্রহের শুকরিয়া স্বরূপ হযরত মুসা (আ.) এদিন রোজা রাখতেন।

পরবর্তীতে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় হিজরতের পর মুসলমানদের আশুরার রোজা রাখার নির্দেশ দেন। রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে এটিই ছিল প্রধান ইবাদত এবং বর্তমানেও এই দিনে রোজা রাখা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ, যা বিগত এক বছরের গুনাহ মোচন করে দেয়।

​একই সঙ্গে সমকালীন মুসলিম মানসে আশুরার গুরুত্ব আরও গভীর আবেগের জন্ম দেয় মহানবী (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসেন (রা.)-এর মহান আত্মত্যাগের মাধ্যমে। সত্য, ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে কারবালার প্রান্তরে তাঁর শাহাদাত বরণ অন্যায় ও অসত্যের কাছে মাথা নত না করার এক চিরন্তন বিপ্লবী রূপ ও দীক্ষা দিয়ে গেছে। মুসলিম জীবনে আশুরা কেবল আচার-অনুষ্ঠান বা শোকের দিন নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধি ও আত্মোপলব্ধির দিন।

একদিকে মুসা (আ.)-এর বিজয়ের আনন্দ ও আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা, অন্যদিকে কারবালার ট্র্যাজেডি থেকে শিক্ষা নিয়ে জীবনকে সত্যের পথে পরিচালিত করাই আশুরার আসল বার্তা। এই দিনটি মূলত মুসলিম উম্মাহকে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থা রাখার এবং যেকোনো মূল্যে ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখার প্রেরণা জোগায়।

এসআর

সম্পর্কিত খবর