[email protected] শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
৪ বৈশাখ ১৪৩৩

মৃত ব্যক্তির চল্লিশা বা দিন পালন: ইসলাম কী বলে?

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ৯:০০ এএম

মুসলিম সমাজে কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর তিন দিন, ২১ দিন বা ৪০ দিন পালনের যে প্রথা প্রচলিত রয়েছে, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়েছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। তার মতে, মৃত ব্যক্তিকে কেন্দ্র

 করে এই ধরণের আনুষ্ঠানিকতা ইসলাম সমর্থন করে না।

​মৃত ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট দিন ক্ষণ পালনের বিষয়টি নিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ বেশ কিছু বিষয় পরিষ্কার করেছেন:

​উৎসের সন্ধান: শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, ইসলামে ৩ দিন বা ৪০ দিন পালনের কোনো নির্দেশনা নেই। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই ধরণের অনেক আনুষ্ঠানিকতা অন্য ধর্মাবলম্বীদের 'শ্রাদ্ধ' প্রথা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সমাজে প্রবেশ করেছে। মুসলিম হিসেবে এ ধরণের প্রথা অনুসরণ করা উচিত নয়।

​ভোজের আয়োজন: ইসলাম অনুসারে, শোকাতুর পরিবারকে এলাকাবাসী বা আত্মীয়দের খাওয়ানো সুন্নত, কারণ তাদের রান্নার মতো মানসিক অবস্থা থাকে না। কিন্তু সামাজিক চাপে মৃত ব্যক্তির পরিবারকে দিয়ে বড় ভোজ বা গরু জবাই করে খাওয়ানো শরিয়তসম্মত নয়।

​নির্দিষ্ট কোনো দিন (যেমন ৪০ দিন) নির্ধারণ না করে যেকোনো সময় মৃত ব্যক্তির সওয়াব পৌঁছাতে নিচের কাজগুলো করা যেতে পারে:

​দোয়া ও ইস্তেগফার: মৃত ব্যক্তির মাগফিরাত বা জান্নাত লাভের জন্য নিয়মিত আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা।

​দান-সদকাহ: অনুষ্ঠান না করে সরাসরি গরিব ও অসহায় মানুষকে আর্থিক সাহায্য বা খাদ্য দান করা।

​সদকায়ে জারিয়া: জনকল্যাণমূলক কাজ যেমন— রাস্তাঘাট সংস্কার, নলকূপ স্থাপন বা ধর্মীয় কাজে অর্থ প্রদান করা, যার সওয়াব চলমান থাকে।

​ঋণ পরিশোধ: মৃত ব্যক্তির ওপর কোনো আর্থিক দেনা থাকলে তা দ্রুত পরিশোধের ব্যবস্থা করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি।

​মূলত, ইসলামে মৃত ব্যক্তির জন্য আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে ইবাদত ও জনকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে সওয়াব পাঠানোর ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর