[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিসহ তিন কমিটি বিলুপ্ত, বহিষ্কার ১৪ নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১ অক্টোবর ২০২৬ ১২:৪২ এএম

সংগৃহীত ছবি

সাংগঠনিক শৃঙ্খলা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার কারণ দেখিয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি, মহানগর উত্তর যুবদল ও মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত করেছে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

একই সময়ে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ১৪ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এসব সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে’ হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ের কয়েকজন নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয়।

এর মধ্যেই সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো এসব পদক্ষেপ নিলেও প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে ওই হামলার ঘটনা সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে কমিটি বিলুপ্তির ক্ষেত্রে মেয়াদোত্তীর্ণতা এবং বহিষ্কারের ক্ষেত্রে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কথা বলা হয়েছে।

বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মো. আমিনুল ইসলামকে আহ্বায়ক এবং মো. মোস্তফা জামানকে সদস্যসচিব করে গঠিত ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বিলুপ্তির নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি। একই সঙ্গে দ্রুত নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়।

অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপির তিন নেতাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়।

তাঁরা হলেন শাহ আলী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খলিল চৌধুরী, সি-ব্লক ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য হাফিজুর রহমান শুক্কু।

বিজ্ঞপ্তিতে তাঁদের বিরুদ্ধে অনৈতিক আচরণ ও দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে মেয়াদ শেষ হওয়ায় ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত করেছে কেন্দ্রীয় যুবদল। সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্বাক্ষর করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের সিদ্ধান্তে কমিটিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।

মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার একই কারণ দেখিয়ে ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়েছে। ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে দ্রুত নতুন কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়।

এর পাশাপাশি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের পাঁচ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন—মহানগর পশ্চিমের সহসভাপতি সারোয়ার আলম পিয়াস, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম জিন্নাহ, দারুসসালাম থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন দিপু, সদস্যসচিব ওমর নাঈম এবং ৯৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সদস্যসচিব শান্ত রহমান। ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এসব সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।

অন্যদিকে দলীয় আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতার বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বহিষ্কৃতরা হলেন দারুসসালাম থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. আক্তার হোসেন মামুন ও সদস্যসচিব মো. হাফিজুর রহমান।

সংগঠনের সহদপ্তর সম্পাদক মো. ওসমান গনির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানী ও সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসানের নির্দেশে তাঁদের বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের তাঁদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ বা সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শ্রমিক দলের পক্ষ থেকেও চার নেতাকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বহিষ্কৃতরা হলেন শাহ আলী থানা শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনির হোসেন, শাহ আলী থানা অটোরিকশা শ্রমিক দলের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, সদস্য হুজাইফা এবং দারুসসালাম থানা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক গোলাম রসুল পারভেজ।

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সভাপতি আনোয়ার হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম খান নাসিম সিদ্ধান্তটি অনুমোদন করেন।

এর আগে মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির পল্লবী থানার ৯১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মফিজুর রহমান মামুনকেও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে অনৈতিক ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, মামুন বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করে মিরপুর এলাকায় একটি অপরাধী চক্র নিয়ন্ত্রণ করতেন। দেশে থাকা তাঁর দুই ভাই জামিল রহমান ও মশিউর রহমানের মাধ্যমে ওই কার্যক্রম পরিচালিত হতো বলেও সূত্রটির দাবি।

চক্রটির বিরুদ্ধে পল্লবী, মিরপুর-১২, সাগুফতা ও বাউনিয়া এলাকায় চাঁদাবাজি, ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, জমি দখল এবং মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।

এসআর

সম্পর্কিত খবর