[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঘটলে রাষ্ট্রই টিকবে না: রুহুল কবির রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬:৫৬ পিএম

সংগৃহীত ছবি

ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি ঘটলে গণতন্ত্র তো দূরের কথা, রাষ্ট্রের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে বলে

 মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিরোধী দলসহ সর্বস্তরের জনগণকে জাতীয় ঐক্যের ধারা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

​বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) যৌথভাবে বিএফইউজের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। সেখানে তিনি এসব কথা বলেন।

​রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখতে রাজনৈতিক কর্মসূচি, বিতর্ক বা তীব্র সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও একটি ন্যূনতম ঐকমত্যের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। তা না হলে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঘটলে কেউ রক্ষা পাবেন না, কারণ তাদের পেছনে অত্যন্ত ভয়ংকর শক্তি মদদ যোগাচ্ছে।

​তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশের পররাষ্ট্রনীতি স্বাধীনভাবে পরিচালনা এবং অর্থনৈতিক সংকট সত্ত্বেও স্বাবলম্বী হওয়ার যে আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা ধরে রাখা জরুরি। অতীতে শেখ হাসিনার আমলে বিরোধী দলের কর্মসূচিতে পুলিশ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বাধা এবং বাস আক্রমণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে রক্তাক্ত করার ঘটনা ঘটত। কিন্তু বর্তমান সময়ে বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি বা লংমার্চে কোনো বাধা দেওয়া হচ্ছে না, যা বিগত সরকারের আমলে কল্পনাও করা যেত না।

​দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক করে তিনি জানান, বিরোধী দলের কর্মসূচিতে যেন কোনো প্রকার বাধা দেওয়া না হয়, সে বিষয়ে জেলা পর্যায়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল এবং তা বজায় রাখা হয়েছে। গণতন্ত্রে সবার কথা বলা ও কর্মসূচি পালনের অধিকার স্বাভাবিক হলেও ‘যা ইচ্ছা তা বলা’ গণতন্ত্রের অংশ হতে পারে না।

​প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে ‘তুই’ করে সম্বোধনের চর্চা সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করেন, এটি সজীব ওয়াজেদ জয়ের শেখানো সংস্কৃতি, যিনি বেগম খালেদা জিয়াকে এভাবে সম্বোধন করতেন। বিগত ১৭ বছর ধরে রাজনীতি ও গণমাধ্যমকে কীভাবে নিপীড়ন ও অপপ্রচারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে তা সবাই দেখেছে। সেই অপসংস্কৃতি রোধেই এখন মার্জিত কিন্তু শক্ত ভাষায় সমালোচনা করা হচ্ছে।

​সভায় রুহুল আমিন গাজীর স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের চরম নিপীড়নের দিনগুলোতেও সবার প্রার্থনা ছিল শেখ হাসিনার পতন দেখা। গাজী ভাই আজ বেঁচে না থাকলেও তিনি ফ্যাসিবাদের পতন দেখে যেতে পেরেছেন—এটাই বড় সান্ত্বনা। রুহুল আমিন গাজীকে 'সময়ের বিবেকের প্রতিনিধি' ও 'সত্য ভাষণের অনন্য প্রতিকৃতি' হিসেবে বর্ণনা করে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।

​প্রেস ক্লাবের ভেতরে পুলিশ ঢুকে রুহুল আমিন গাজীকে যেভাবে গ্রেপ্তার করেছিল, তাকে ফ্যাসিবাদের নজিরবিহীন বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করে রিজভী বলেন, ইতিহাসজুড়ে হিটলার বা মুসোলিনির মতো স্বৈরাচারদের যেমন কিছু বুদ্ধিজীবী সমর্থন করেছিল, বাংলাদেশেও তেমনই ঘটেছিল। তবে সব নির্যাতন সহ্য করে রুহুল আমিন গাজী মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিলেন এবং দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় তিনি তৎকালিন সরকারের শত্রুতে পরিণত হয়েছিলেন।

​অনুষ্ঠানে জ্বালানি সংকট ও বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে তিনি সতর্ক করেন যে, চারপাশের পরিবেশ এখনও শঙ্কামুক্ত নয়। ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সীমান্ত পেরিয়ে টেলিফোনে বোমা হামলা চালিয়ে ছবি পাঠানোর মতো তথ্যও প্রকাশ পাচ্ছে। তাই বাংলাদেশকে কোনো দেশের অনুগত বা ‘পেছনের উঠান’ বানিয়ে ফেলার চক্রান্ত রুখে দিতে সকলকে সজাগ থাকতে হবে।

​ডিইউজের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ আলমের সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ডিইউজের সাবেক সভাপতি এলাহি নেওয়াজ খান সাজু, যুগান্তর সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার, বিএফইউজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওবায়দুল রহমান শাহীন, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাসির জামাল, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, বিএফইউজের সহ-সভাপতি এ কে এম মহসিন ও খাইরুল বাশার এবং প্রয়াত রুহুল আমিন গাজীর ছেলে আফ্ফান আবরার আমীন।

এসআর

সম্পর্কিত খবর