[email protected] রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
১৫ ভাদ্র ১৪৩৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইস্যুতে সরকারকে প্রশ্ন, হাসনাতের বক্তব্যে জেলায় উত্তেজনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৯ আগষ্ট ২০২৬ ১২:৫৬ পিএম

সংগৃহীত ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কনসার্ট ও নৌকাবাইচ বন্ধ এবং জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।

তার প্রশ্নের পরই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শুরু হয়েছে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ। বক্তব্যের জন্য ক্ষমা না চাইলে জেলায় এনসিপির কোনো কর্মসূচি করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ।

 

এ পরিস্থিতিতে শনিবার (২৯ আগস্ট) ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এনসিপির সাংগঠনিক কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

 

সংসদে হাসনাতের বক্তব্য

গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছে সম্পূরক প্রশ্ন করেন কুমিল্লা-৪ আসনের এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।

 

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তুলনামূলক পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মাসে গড়ে ২৬০টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমান সরকারের সময়ে সেই সংখ্যা বেড়ে ৩১১টিতে দাঁড়িয়েছে। তার দেওয়া হিসাবে, অন্তর্বর্তী সরকারের ছয় মাসে ১ হাজার ৭৮০ জন এবং বর্তমান সরকারের ছয় মাসে ১ হাজার ৭৮৯ জন হত্যার শিকার হয়েছেন।

 

নারী ও শিশু নির্যাতনের পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন তিনি। হাসনাতের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের ছয় মাসে এ ধরনের ঘটনা ছিল ১ হাজার ৯০টি। বর্তমান সরকারের ছয় মাসে তা বেড়ে ১১ হাজার ১৬৫টিতে পৌঁছেছে।

 

এ ছাড়া তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগের সরকারের ছয় মাসে গণপিটুনিতে ১৬৬ জন নিহত হলেও বর্তমান সরকারের সময়ে নিহত হয়েছেন ১২০ জন। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা আগের সময়ে ২৭৫টি থাকলেও বর্তমান সরকারের ছয় মাসে তা বেড়ে ৩১৭টিতে দাঁড়িয়েছে।

 

এরপর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে ধরেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

 

তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও সিনেমার মতো বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ড প্রায় বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় গত ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কতটা সফল হয়েছেন, তা জানতে চান তিনি।

 

একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনরুদ্ধারে মন্ত্রীর ভূমিকা কতটা কার্যকর হয়েছে এবং তিনি এ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছেন কি না—সেটিও জানতে চান এনসিপির এই সংসদ সদস্য।

 

যে জবাব দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

 

হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তার বক্তব্যের ধরন নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এটি প্রশ্ন নাকি পল্টনের বক্তৃতা, তা তিনি বুঝতে পারেননি।

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিনেমা হল না থাকা এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি—দুটিকে আলাদা বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

 

হাসনাতের উপস্থাপিত হত্যা ও আহতের পরিসংখ্যানের ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এসব তথ্য কোন উৎস বা পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে, তা তার জানা নেই বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং এর দৃশ্যমান প্রমাণও রয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের অনেক ক্ষেত্রেই ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা নিয়ে সংসদে প্রশ্ন থাকলে তা তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজন হলে ৩০০ বিধিতে তিনি সংসদে এ বিষয়ে বিবৃতি দিতে পারবেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ

সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের প্রতিবাদে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ মিছিল বের করে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ।

রাত পৌনে ১২টার দিকে শহরের জামিয়া ইউনিসিয়া মাদ্রাসা থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে বিক্ষোভকারীরা সমাবেশ করেন।

সমাবেশে বক্তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে সংসদে দেওয়া হাসনাতের বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তারা তার বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। ক্ষমা না চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এনসিপির কোনো কর্মসূচি করতে দেওয়া হবে না বলেও ঘোষণা দেন তারা।

শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এনসিপির সাংগঠনিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে হাসনাতের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ ও কর্মসূচি প্রতিহতের ঘোষণায় স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে এখনো এনসিপির কোনো নেতার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের প্রতিবাদে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

তিনি আরও জানান, এনসিপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর