[email protected] রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
১০ শ্রাবণ ১৪৩৩

ভাইরাল ভিডিওতে এমপিকে হুমকি, আইনি পদক্ষেপের কথা জানালেন মুহাম্মদুল্লাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ জুলাই ২০২৬ ৫:৫৩ পিএম

সংগৃহীত ছবি

ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহকে লক্ষ্য করে হুমকিমূলক বক্তব্য দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভিডিওটি প্রকাশের পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।


স্থানীয়দের দাবি, ভিডিওতে বক্তব্য দেওয়া ব্যক্তি তারাকান্দা উপজেলার আটাদার এলাকার বাসিন্দা মো. সোহরাব হোসেন। ভিডিওতে তিনি সংসদ সদস্যকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেন এবং তার বিরুদ্ধে হুমকিমূলক মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে মোতাহার হোসেন তালুকদারের নাম উল্লেখ করে এমপিকে সতর্ক করার কথাও বলেন।


ঘটনার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ বলেন, ভিডিওটি তিনি দেখেছেন এবং বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে থানা ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। তার ভাষ্য, এটি মূলত চাঁদাবাজি বন্ধ হওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ। কিছু ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে উত্তেজনা ছড়িয়ে সংঘাতের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।


মোতাহার হোসেন তালুকদারের নাম ভিডিওতে উল্লেখ হওয়ার বিষয়ে এমপি বলেন, বিষয়টি ভিডিওতেই স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। স্থানীয়দের কাছ থেকেও তিনি শুনেছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তালুকদারের সঙ্গে একাধিকবার দেখা গেছে।


নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মুহাম্মদুল্লাহ বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে আতঙ্কিত নন। তবে এ ধরনের হুমকি সামাজিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করতে পারে বলে মনে করেন। তাই আইনের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান চান তিনি। পাশাপাশি গণমাধ্যমকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।


অন্যদিকে, মোতাহার হোসেন তালুকদার দাবি করেন, ঘটনাটি রাজনৈতিক নয়; এটি ব্যক্তিগত বিরোধের ফল। তার বক্তব্য, একটি পুরোনো ঘটনার জেরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে এমপির বিরোধ রয়েছে। ভিডিও প্রকাশের পর তিনি ওই ব্যক্তিকে ভিডিওটি মুছে ফেলতে বলেন এবং পরে সেটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানান।
দলীয় পরিচয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির কোনো সাংগঠনিক পদ নেই।

তার কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে। সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললে দলীয়ভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এদিকে, তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রাশিদ বলেন, ভাইরাল ভিডিওটি পুলিশের নজরে এসেছে। তিনি জানান, সংসদ সদস্যের প্রতিনিধিকে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে সাইবার ট্রাইব্যুনালেও অভিযোগ করা যেতে পারে। জিডি হওয়ার পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর