সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর
কেন্দ্রীয় নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কিত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন সাবেক এনসিপি নেত্রী ডা. তাসনিম জারা। একই সঙ্গে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার ও চাকরির ক্ষেত্রে সুপারিশনির্ভর সংস্কৃতির সমালোচনা করেছেন।
বুধবার (২২ জুলাই) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে ডা. তাসনিম জারা বলেন, ভিডিওতে থাকা তরুণীর জীবনযাত্রার বাস্তবতা বিবেচনায় নিলে বিষয়টি কেবল ব্যক্তিগত কোনো বিতর্ক নয়, এটি ক্ষমতা ও অসহায়ত্বের সম্পর্কের দিক থেকেও বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, ১৮ বছর বয়সী ওই তরুণী এসএসসি পাস করেই চাকরির সন্ধানে নেমেছিলেন, যা তার পরিবারের আর্থিক অনটনের চিত্র তুলে ধরে। সুবিধাবঞ্চিত মানুষেরা জীবিকার প্রয়োজনে কীভাবে স্থানীয় প্রভাবশালী বা জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘোরে, তিনি সে বিষয়টিও লেখায় তুলে ধরেন।
ডা. তাসনিম জারা সেখানে ক্ষমতার সম্ভাব্য অপব্যবহারের আশঙ্কা প্রকাশ করে নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানান। তিনি লেখেন, সংসদ সদস্য তার পদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে কোনো অসহায় তরুণীকে শোষণের চেষ্টা করেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনাটি মিথ্যা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কলঙ্কমুক্ত হবেন, আর সত্য প্রমাণিত হলে সংসদের মর্যাদা রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। অন্যথায় এ বিষয়ে সংসদের নীরবতা সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা দেবে।
পোস্টের শেষাংশে তিনি দেশের নিয়োগ ব্যবস্থায় বিদ্যমান সুপারিশপ্রথার সমালোচনা করে বলেন, রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও চাকরিতে সুপারিশের সংস্কৃতি পরিবর্তন হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষকে বারবার ক্ষমতাবানদের কাছে জিম্মি হয়ে থাকতে হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের একটি 'ব্যক্তিগত মুহূর্তের' ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পেলে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। শুরুতে জামায়াত সমর্থিত অনেকে ভিডিওটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করলেও, পরবর্তীতে ওই তরুণীকে সংসদ সদস্যের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দাবি করা হয়। সংসদ সদস্য নিজেও নিজের ফেসবুক পোস্ট ও লিখিত বিবৃতিতে ওই তরুণীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে উল্লেখ করেছেন।
এসআর