জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেবল ফাঁসির রায়
কার্যকর হওয়ার জন্যই দেশে ফিরবেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। আন্তর্জাতিক ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) দিবস উপলক্ষে শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ন্যাশনাল এসএমই অ্যাসোসিয়েশন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে নাহিদ ইসলাম বলেন, সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে ডিসেম্বরে কারও দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানা গেছে। বিগত ১৬ বছর ধরে দেশ ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছাত্র-জনতাও চায় শেখ হাসিনা দেশে ফিরুক, তবে তা কেবল তাঁর ফাঁসির রায় কার্যকর করার জন্য। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ইতিমধ্যে রায় হয়ে গেছে জানিয়ে তিনি বর্তমান সরকারকে কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় এই গণহত্যাকারীকে দেশে ফিরিয়ে এনে দ্রুত রায় কার্যকর করার আহ্বান জানান।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, শেখ হাসিনা কীভাবে বা কাদের নিয়ে আসবেন কিংবা আত্মসমর্পণ করবেন কি না—তা নির্ধারণের দায়িত্ব বাংলাদেশ সরকারের। এ বিষয়ে সরকার সরাসরি দিল্লির সাথে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক স্তরে আলোচনা করবে। তিনি আরও যোগ করেন, শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত নয়, বরং দিল্লি থেকে যতটুকু অনুমতি দেওয়া হয় তিনি সে অনুযায়ীই কথা বলেন। তাই তাঁর ফেরা এবং বিচারের রায় কার্যকর হওয়া মূলত ঢাকা ও দিল্লির রাজনৈতিক বোঝাপড়ার ওপর নির্ভর করছে।
নাহিদ ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার কোনো পাঁয়তারা বা প্রচেষ্টা হলে এবং সরকার তাতে প্রশ্রয় দিলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সরকারই হবে। জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতা, আহত ও শহীদ পরিবারসহ দেশের আপামর জনগণ যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। দলগতভাবে আওয়ামী লীগের বিচারের উদ্যোগকে সঠিক পথ উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তা হবে কেবল মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য, যা দেশের স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় পদক্ষেপ হবে। সারা দেশ থেকে আসা বিভিন্ন উদ্যোক্তা ও কর্মকর্তারা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
এসআর