[email protected] শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
৫ আষাঢ় ১৪৩৩

পদের লোভ দেখিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা, এনসিপি নেতা-নেত্রীর বিরুদ্ধে জিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯ জুন ২০২৬ ৮:৪৩ পিএম

সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নারী কর্মীকে পদ ও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে হয়রানির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে দলের এক কেন্দ্রীয় নেতা ও এক নারী নেত্রীর বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী দাবি করে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দলীয়ভাবে তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার নগরীর চকবাজার থানায় অভিযোগটি নথিভুক্ত করা হয়।

অভিযোগকারী নিজেকে এনসিপির সক্রিয় কর্মী এবং চট্টগ্রাম মহানগর নারী সংগঠনের সম্ভাব্য পদপ্রত্যাশী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।

জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৪ জুন সন্ধ্যায় দলীয় সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনার কথা বলে তাকে নগরীর একটি হোটেলে ডাকা হয়।

সেখানে উপস্থিত হওয়ার পর তাকে বিভিন্ন রাজনৈতিক পদ ও চাকরির সুযোগের আশ্বাস দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর দাবি, একপর্যায়ে সেখানে উপস্থিত কয়েকজনের আচরণ তাকে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলে এবং তিনি নিজেকে অপমানিত ও নিরাপত্তাহীন মনে করেন।

প্রতিবাদ জানালে তাকে ভয়ভীতি ও বিভিন্ন ধরনের চাপের মুখে পড়তে হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুক্রবার চট্টগ্রামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওই নারী তার অভিযোগের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, বৈঠকের স্থান হিসেবে যে জায়গায় তাকে যেতে বলা হয়েছিল, সেখানে গিয়ে তিনি প্রত্যাশিত পরিবেশ পাননি। পরবর্তীতে বিভিন্ন আচরণ ও কথাবার্তায় তিনি বিব্রত বোধ করেন এবং দ্রুত সেখান থেকে চলে আসেন।

অভিযোগে যাদের নাম এসেছে তারা হলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতা এস এম সুজা উদ্দীন এবং দলের নারী সংগঠনের নেত্রী সাদিয়া আফরিন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে সংশ্লিষ্ট হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং তদন্তে তারা সহযোগিতা করছে।

ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে এনসিপির পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দলের এক জ্যেষ্ঠ নেতা জানিয়েছেন, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তবে অভিযোগের বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

এসআর

সম্পর্কিত খবর