[email protected] বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১৩ কার্তিক ১৪৩৩

টেকনাফ কাউন্সিলর হত্যা: শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ৮:৫৭ এএম

সংগৃহীত ছবি

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে কক্সবাজারের টেকনাফে কাউন্সিলর

 একরামুল হককে 'বন্দুকযুদ্ধে' হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আজ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বিচারিক বেঞ্চে এই শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

​প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ না থাকায় রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজকের দিন নির্ধারণ করা হয়। আজকের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ ১১ আসামির বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবে।

​এই মামলায় বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন চারজন আসামি। তারা হলেন—কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম এবং র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক (বর্তমানে অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে থাকা) কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান।

​অন্যদিকে, মামলায় পলাতক থাকা অপর সাত আসামি হলেন—সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, মেজর (অব.) রুহুল আমিন, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশেকুর রহমান এবং ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব মাহমুদ।

​এর আগে গত ২৫ আগস্ট পলাতক সাত আসামিকে আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। পরবর্তীতে ৭ সেপ্টেম্বর তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত বা স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল-২। নির্ধারিত হাজিরার দিনে গ্রেপ্তার চার আসামি ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত থাকলেও বাকিরা আত্মসমর্পণ করেননি। এর আগে গত ২৬ জুলাই এই ১১ জনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়েছিল।

​মামলার বিবরণে প্রসিকিউশন জানায়, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাতের দিকে টেকনাফের কিরণতলীর হোটেল নেটংয়ের সামনের সড়ক থেকে একরামুল হককে তুলে নেওয়া হয়। ওই দিন রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নোয়াখালিয়া পাড়ায় মেরিন ড্রাইভের সাগরতীরে র‍্যাবের কথিত বন্দুকযুদ্ধে তিনি নিহত হন। নিহত একরামুল হক টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

​আসামিদের বিরুদ্ধে এই মামলায় অবৈধভাবে আটক রাখা, অপহরণ, বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে গুলি করে হত্যা, অপরাধ সংঘটনে সরাসরি সংশ্লিষ্টতা, প্ররোচনা, সহায়তা এবং হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দেওয়ার মতো সুনির্দিষ্ট সব অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন পক্ষ।

এসআর

সম্পর্কিত খবর