[email protected] রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
১৭ কার্তিক ১৪৩৩

আকামার মেয়াদ পেরোলেও সৌদিতে ফেরার সুযোগ পাবেন বাংলাদেশি কর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ৭:৪০ পিএম

সংগৃহীত ছবি

যুদ্ধের প্রভাবে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবে পৌঁছাতে পারেননি অনেক বাংলাদেশি কর্মী।

 সময়ের মধ্যে তাঁদের আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও পুনরায় সৌদিতে প্রবেশের সুযোগ থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

 

মন্ত্রী জানান, সংশ্লিষ্ট কর্মীরা পরবর্তী সময়ে সৌদি আরবে যাওয়ার সুযোগ পেলে তাঁদের প্রবেশের প্রক্রিয়া ইলেকট্রনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হবে।

 

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে বিয়াম ফাউন্ডেশন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান।

 

সভায় জনশক্তি রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সরকার ও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান মন্ত্রী। একই সঙ্গে বিদেশে কর্মী পাঠানোর খরচ কমানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

 

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, কোনো দেশে যেতে যেখানে প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ হওয়ার কথা, সেখানে কর্মীদের কাছ থেকে সাত থেকে আট লাখ টাকা নেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধ করতে হবে। অভিবাসনের ব্যয় পরিশোধ করতেই যেন কর্মীদের দীর্ঘ সময় ব্যয় না হয়, সে বিষয়েও নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

 

বিদেশগামী কর্মীদের প্রক্রিয়া সহজ করতে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে (বিএমইটি) আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। ভিসার বৈধতা দ্রুত যাচাই এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য উন্মুক্ত ইমেইল সেবা চালুর বিষয়েও কাজ চলছে। পাশাপাশি কর্মীদের গন্তব্য দেশের আইন ও বিধিবিধান সম্পর্কে সচেতন করতে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকেও ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, এমপি এবং বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী। সম্মানিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া। সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ।

 

প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক সৌদি আরবে কারাবন্দি বাংলাদেশি নাগরিকদের আগামী রমজানে বিশেষ ক্ষমার আওতায় আনার বিষয়ে দেশটির সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি দুই দেশের পারস্পরিক সমস্যাগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রত্যাশা জানান এবং অভিবাসন ব্যয় কমাতে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

 

সৌদি রাষ্ট্রদূত বলেন, দেশটির নাগরিকদের পর সৌদি আরবে সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর মধ্যে বাংলাদেশিরা রয়েছেন। দুই দেশের বিদ্যমান সুসম্পর্কের ভিত্তিতে শ্রমবাজারে সহযোগিতা আরও বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

 

আলোচনা সভায় বিএমইটির মহাপরিচালক জামিল আহমেদ, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান, বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল হকসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

সভায় রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধিরা তাকামুল পরীক্ষা সহজ করা, পরীক্ষার ফি কমানো, বিএমইটির বিভিন্ন জটিলতা নিরসন এবং এজেন্সিগুলোর কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার দাবি জানান।

এসআর

সম্পর্কিত খবর