বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কর্মী নিয়োগের লক্ষ্যে নতুন চুক্তি করেছে বাংলাদেশ ও জাপান।
বাংলাদেশের পক্ষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব চুক্তিতে সই করেন।
জাপানের পক্ষে দেশটির বিচার, পররাষ্ট্র, স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সির প্রতিনিধিরা এতে স্বাক্ষর করেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চুক্তিটির প্রাথমিক মেয়াদ পাঁচ বছর। নির্ধারিত সময় শেষে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও পাঁচ বছরের জন্য কার্যকর থাকবে। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে চুক্তিটির মেয়াদ দাঁড়াবে ১০ বছর।
এই সমঝোতার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে কর্মী নিয়োগ ও গ্রহণের ক্ষেত্রে সমন্বয় বাড়বে।
একই সঙ্গে বাংলাদেশি কর্মীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিদেশে কাজের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, নতুন চুক্তির ফলে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা, দক্ষতা বৃদ্ধি, তুলনামূলক ভালো বেতন এবং জাপানে দীর্ঘমেয়াদে কাজ ও বসবাসের সুযোগ বাড়তে পারে।
তিনি আরও বলেন, জাপানে কর্মরত বাংলাদেশিরা দেশটির স্থানীয় শ্রমিকদের মতো আইনি সুরক্ষা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
পাশাপাশি নারী ও পুরুষ কর্মীদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টিও চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
চুক্তিতে নারী কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
গর্ভধারণ কিংবা সন্তান জন্মদানের কারণে কোনো নারী বিদেশি কর্মীকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া বা তাঁর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা যাবে না। এ ধরনের কারণে জোর করে দেশে ফেরত পাঠানোর বাধ্যবাধকতাও রাখা হয়নি।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে চুক্তির অনুলিপি আনুষ্ঠানিকভাবে বিনিময় করা হবে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, এই চুক্তি বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।
পাশাপাশি জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের অংশগ্রহণ এবং দেশের দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
এসআর