বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর হিন্দু সম্প্রদায়ের কল্যাণে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন সম্প্রদায়টির নেতারা।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর অল্প সময়ের মধ্যেই সরকার বেশ কিছু উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে। আরও কিছু বিষয়ে কাজ করার চেষ্টা চলছে। এসব কার্যক্রম সরকারের সদিচ্ছারই প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ ও বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। একইভাবে ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনেও ধর্ম ও বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে মানুষ একসঙ্গে অংশগ্রহণ করেছেন।
তিনি বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মানুষ যখন ধর্মীয় পরিচয়কে প্রাধান্য না দিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন, তখন নাগরিকদের অন্যান্য অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও ধর্মকে বিবেচনায় নেওয়ার সুযোগ নেই। দেশের স্বাধীনতা অর্জন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সব সম্প্রদায়ের মানুষের অবদান রয়েছে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিভিন্ন আন্দোলনে নানা ধর্মের নেতা-কর্মীদের নির্যাতনের শিকার হওয়ার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষ্য, ওই সময়ে মুসলমানদের পাশাপাশি হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা-কর্মীরাও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এ ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো পার্থক্য ছিল না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সৃষ্টিকর্তা তাকে মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন। সেই দায়িত্ব থেকে তিনি প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের পরিবর্তে মানুষ ও নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার রক্ষায় গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, একজন নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের যে অধিকার ও ন্যায্য প্রাপ্য রয়েছে, তা নিশ্চিত করা সরকারপ্রধান হিসেবে তার দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনে নিজের অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন।
মতবিনিময় সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে তারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করছেন এবং উল্লেখযোগ্য কোনো সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন না। বিএনপিকে সমর্থন করার সিদ্ধান্তের বিষয়ে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি সরকারের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলক সাহা, বারিধারা ডিওএইচ পূজা কমিটির সভাপতি জীবন কানাই দাস, ব্রিটিশ চন্দ্র কর্মকার, নারায়ণ চন্দ্র সাহা, প্রদীপ চন্দ্র দাস, শিখা রানী দাস, শ্যামল কুমার দাস ও রাজিব কুমার আচার্য।
এ ছাড়া ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য তারেক রহমানের প্রতিনিধি আব্দুর রহমান সানি এবং বনানী সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ সফিকুজ্জামান রতন সভায় অংশ নেন।
এসআর