পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে সাভার সেনানিবাসে সেনাবাহিনীর সাতটি ইউনিটকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড বা জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেনাবাহিনীর ৯ম পদাতিক ডিভিশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, উপদেষ্টা, সেনাপ্রধান, বিদেশি কূটনীতিক এবং সশস্ত্র বাহিনীর বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে শুধু আধুনিক প্রযুক্তি অর্জন করলেই চলবে না। সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করাও জরুরি। প্রযুক্তির অগ্রগতির পাশাপাশি প্রশিক্ষিত জনবল ও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে তিনি বলেন, তাঁদের আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, পেশাগত উন্নয়ন এবং অবসর-পরবর্তী সামাজিক নিরাপত্তাকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোয় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ ছাড়া ‘ওয়ান র্যাংক ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়নের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, বর্তমানে যুদ্ধের ধরন ও নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ দ্রুত বদলে যাচ্ছে। প্রচলিত স্থল, নৌ ও আকাশ প্রতিরক্ষার পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা, মহাকাশ প্রযুক্তি, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং তথ্যপ্রযুক্তিগত সক্ষমতা জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠেছে। এসব পরিবর্তন বিবেচনায় রেখে প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদার করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ড ও অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতিতে সশস্ত্র বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে। আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমেও বাংলাদেশের বাহিনীর সদস্যরা সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন।
বক্তব্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সঙ্গে সেনাবাহিনীর ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর দমন-পীড়ন শুরু হলে তৎকালীন অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের উপঅধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান বিদ্রোহের ঘোষণা দেন। পরে তিনি বাঙালি সেনাসদস্যদের সংগঠিত করে সশস্ত্র প্রতিরোধে অংশ নেওয়ার নির্দেশনা দেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জিয়াউর রহমানের লেখা ‘একটি জাতির জন্ম’ নিবন্ধের তথ্য উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নিবন্ধে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে সেনাসদস্যদের সশস্ত্র সংগ্রামে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পরদিন ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করেন জিয়াউর রহমান।
তারেক রহমানের মতে, বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামে সেনাসদস্যদের প্রতিরোধ ও আত্মত্যাগ দেশের সামরিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। স্বাধীনতার চেতনা ধারণ করে সশস্ত্র বাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করে গড়ে তোলার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
এসআর