[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

ব্যাংককে আইএমএফ–বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভা, নজর বাংলাদেশের ঋণে

সাইদুর রহমান

প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৫৩ এএম

ব্যাংকক থেকে: থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভা।

১২ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলা এ সভায় বাংলাদেশের সম্ভাব্য নতুন ঋণ কর্মসূচি, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক গুরুত্ব পেতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য প্রায় ৪৫০ কোটি ডলারের নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে সরকারের আলোচনা চলছে। প্রস্তাবিত কর্মসূচির মেয়াদ তিন বছর হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট আলোচনায় উঠে এসেছে। ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা দূর করা, রাজস্ব আদায় বাড়ানো এবং সরকারি ভর্তুকি ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের মতো বিষয়ও আলোচনার অংশ হতে পারে।

সভায় অংশ নিতে ব্যাংককে অবস্থান করছেন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে বৈঠকে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি, অর্থায়নের প্রয়োজন এবং সংস্কার পরিকল্পনা গুরুত্ব পেতে পারে।

বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক মূল্যায়নে ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, জ্বালানি সরবরাহের চাপ, রাজস্ব আদায়ে সীমাবদ্ধতা এবং বিনিয়োগের মন্থর গতির মতো চ্যালেঞ্জ উঠে এসেছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় আর্থিক খাতের সুশাসন নিশ্চিত করা, কর আদায়ের পরিধি বাড়ানো এবং জ্বালানি খাতে কার্যকর সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের রাজস্ব আদায় জিডিপির ৮ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। রাজস্বের এই সীমিত ভিত্তি সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং জনকল্যাণমূলক ব্যয় বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফলে রাজস্ব ঘাটতি কমানোর পাশাপাশি সরকারের আয় বাড়ানোর কৌশলও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।

ব্যাংককের কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারি প্রতিনিধি, নীতিনির্ধারক ও উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নিচ্ছেন। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯১টি দেশের ১৫ হাজারের বেশি প্রতিনিধির অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। বাংলাদেশের সরকারি প্রতিনিধিদলের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরাও সভায় অংশ নিচ্ছেন।

বার্ষিক সভায় বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি সদস্য দেশগুলোর অর্থায়নের চাহিদা, উন্নয়ন অগ্রাধিকার ও নীতিগত সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়ে থাকে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নতুন ঋণ নিয়ে আলোচনা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদারে সংস্কার উদ্যোগের অগ্রগতি বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর