[email protected] সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
৪ কার্তিক ১৪৩৩

চট্টগ্রাম বন্দরে ৩২৩টি ঝুঁকিপূর্ণ কনটেইনার: বৈরুত ট্র্যাজেডির মতো বিস্ফোরণের শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ৮:২২ এএম

সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রাম বন্দরে বছরের পর বছর ধরে পড়ে আছে ৩২৩ টিইইউ বিপজ্জনক রাসায়নিক ভর্তি

 কনটেইনার। এর মধ্যে ৪৪টি কনটেইনার জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে এবং কোনো কোনোটি থেকে রাসায়নিক পদার্থ বাইরে বেরিয়ে আসছে। ফলে অগ্নিকাণ্ড, বিস্ফোরণ ও মারাত্মক পরিবেশদূষণের বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ২০২০ সালে লেবাননের বৈরুত বন্দরে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট মজুত থেকে ঘটা ভয়াবহ দুর্ঘটনার মতো ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

​বন্দর ও কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে পড়ে থাকা এসব কনটেইনারে সালফিউরিক অ্যাসিড, নাইট্রিক অ্যাসিড, মিথানল ও থিনারের মতো উচ্চ দাহ্য পদার্থ রয়েছে। ঘনবসতিপূর্ণ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দরে এসব পণ্য যেকোনো মুহূর্তে বিস্ফোরিত বা আগুনে রূপ নিতে পারে। এতে শুধু বন্দরের স্বাভাবিক অবকাঠামো ও বাণিজ্য ব্যাহত হবে না, বরং বাতাসে বিষাক্ত গ্যাস ছড়ানোসহ মাটি ও পানি দূষিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

​আমদানিকারকদের পণ্য খালাস না করা, নিলাম প্রক্রিয়ার ধীরগতি এবং আইনি জটিলতার কারণে এই জট তৈরি হয়েছে। সাধারণত আমদানির ৩০ দিনের মধ্যে পণ্য খালাস না হলে নিলামে তোলার নিয়ম থাকলেও বিপজ্জনক কেমিক্যালের ক্ষেত্রে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়। সম্প্রতি বন্দর কর্তৃপক্ষ ও কাস্টমস যৌথভাবে এসব কেমিক্যাল সরানোর উদ্যোগ নিয়েছে। প্রথম ধাপে রূপগঞ্জের একটি কারখানায় ধ্বংসের উদ্দেশ্যে ১৫০.৮৯ টন রাসায়নিকসহ ৯টি কনটেইনার পাঠানো হয় এবং সেখানে ৮টি কনটেইনারের কেমিক্যাল নিরাপদে নষ্ট করা সম্ভব হয়েছে।

​তবে এসব রাসায়নিক পরিবহনের সময় কাঁচপুর এলাকায় কাভার্ড ভ্যানে আগুন লাগার ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়ায়। যদিও কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, আগুনের সূত্রপাত গাড়ির ইঞ্জিন থেকে হয়েছিল এবং ড্রামগুলো খালি ছিল, ফলে কোনো বিস্ফোরণ ঘটেনি। তবুও বিপজ্জনক কেমিক্যাল পরিবহনে আরও কড়া নজরদারির তাগিদ এসেছে।

​বর্তমানে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর) অনুসরণ করে ব্যবহারযোগ্য কেমিক্যাল নিলামে বিক্রি করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ কেমিক্যাল নিরাপদে ধ্বংস করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ক্ষতি এড়াতে অবিলম্বে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে এসব জরাজীর্ণ কনটেইনার সরিয়ে ফেলা এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিধি মেনে নিষ্পত্তির কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

এসআর

সম্পর্কিত খবর