বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
সাক্ষাতে আবরারের বাবা মো. বরকত উল্লাহ, মা রোকেয়া খাতুন, ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ, এক মামা ও এক চাচা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজ নেন।
সাক্ষাতে আবরারের বাবা তার ছেলের হত্যা মামলার বিচার দ্রুত শেষ করে রায় কার্যকরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, মামলাটি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন। আদালত স্বাধীনভাবে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। তবে পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
এ সময় কুষ্টিয়ায় গড়াই নদীর ওপর সেতু নির্মাণের দাবিও জানান আবরারের বাবা। তার দাবি, ওই এলাকার প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষ বর্তমানে সাঁকো ব্যবহার করে নদী পার হন। প্রধানমন্ত্রী সেতু নির্মাণের বিষয়ে আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি এটি আবরার ফাহাদের নামে করার প্রতিশ্রুতি দেন।
আবরারের কবর পাকাকরণ এবং কবরের পাশের মসজিদের নির্মাণকাজ শেষ করার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চান তার বাবা। পরে মসজিদটির নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।
সাক্ষাতে হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের প্রসঙ্গও ওঠে। আবরারের বাবা জানান, মামলার একজন আসামি কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালানোর প্রায় ছয় মাস পর বিষয়টি পরিবারকে জানানো হয়েছিল। পলাতক ও এখনো গ্রেপ্তার না হওয়া আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
আবরারের মা রোকেয়া খাতুন ভবিষ্যতে যেন কোনো শিক্ষার্থীকে এ ধরনের ঘটনার শিকার হতে না হয়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
এদিকে আবরারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ প্রধানমন্ত্রীকে বুয়েট ক্যাম্পাস পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান। পাশাপাশি বুয়েটে আবরার ফাহাদের নামে একটি হল নির্মাণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তার ঘটনা তুলে ধরতে পাঠ্যবইয়ে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার দাবি করেন। হল নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষা সচিবের সঙ্গে কথা বলেন।
ফাইয়াজ আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনে নিহতদের তালিকা করা হয়েছে। একইভাবে অতীতে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহতদেরও একটি তালিকা করা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একটি প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সাক্ষাতের সময় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির উপস্থিত ছিলেন।
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের একটি কক্ষে আবরার ফাহাদকে ডেকে নিয়ে মারধর করে হত্যা করা হয়। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি তৎকালীন সরকারের ভারতনীতি ও কয়েকটি চুক্তি-সমঝোতা নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন।
ঘটনার পরদিন আবরারের বাবা চকবাজার থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তদন্ত শেষে ডিবি ২৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়।
২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ মামলার রায়ে ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখেন।
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নয় আসামি আপিল বিভাগে আপিল করেছেন। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত একজনও লিভ টু আপিল করেছেন। বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন।
এসআর