প্রকাশিত:
৭ অক্টোবর ২০২৬ ৯:৪০ পিএম
এয়ারবাসের সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১০টি উড়োজাহাজ কেনার
চুক্তিকে বাংলাদেশ ও ইউরোপের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। তিনি জানান, বাংলাদেশ এই সম্পর্ককে শুধু উড়োজাহাজ কেনাবেচায় সীমাবদ্ধ না রেখে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের মাধ্যমে আরও বড় অংশীদারত্বে রূপ দিতে চায়।
বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর রেডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের মধ্যে এই চুক্তি সই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে আশিক চৌধুরী বলেন, একটি দেশের পতাকাবাহী বিমান সংস্থা কেবল যাত্রী পরিবহনের মাধ্যম নয়, বরং তা বিশ্বের সঙ্গে দেশের সংযোগ সেতু। বিদেশে কর্মরত শ্রমিক, শিক্ষার্থী, হজযাত্রী ও প্রবাসী বাংলাদেশীদের আবেগের সঙ্গে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান গভীরভাবে যুক্ত। দেশের মানুষ এমন একটি এয়ারলাইন্স চায় যা তাদের স্বপ্নকে বিশ্বজুড়ে পৌঁছে দেবে এবং নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অংশীদার এবং সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার। এলডিসি উত্তরণের পর বাণিজ্য সুবিধার বাইরে গিয়ে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি বিনিময়ের ভিত্তিতে এই সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশ ও ইইউ-এর মধ্যে সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তিটি সেই পথের সূচনা করতে পারে।
পাশাপাশি, বিমানের বহর বৃদ্ধির ফলে দেশে এভিয়েশন রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহল (এমআরও) খাতের ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে তিনি মনে করেন। বাংলাদেশে এমআরও সুবিধা গড়ে উঠলে তা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের উড়োজাহাজ সেবার কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে, যা স্থানীয় প্রকৌশলীদের জন্য উচ্চমূল্যের কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। বাংলাদেশ এয়ারবাসকে নিছক সরবরাহকারী হিসেবে নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার হিসেবে দেখতে চায়।
অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং এয়ারবাস ইন্ডিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুর্গেন ওয়েস্টারমায়ারসহ উভয় পক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এসআর