[email protected] শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র, একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৭ অক্টোবর ২০২৬ ১২:২৭ পিএম

সংগৃহীত ছবি

বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কেন্দ্রটি নির্মাণে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা।

প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য তোলা হয়।

এদিন সভায় মোট ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩টি প্রকল্প অনুমোদনের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।

রামপাল সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য প্রস্তাবিত অর্থের মধ্যে বিপিডিবির নিজস্ব তহবিল থেকে ৩৭৪ কোটি টাকা এবং বিদ্যুৎ খাত উন্নয়ন তহবিল থেকে ২ হাজার ১২৩ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করে ২০২৯ সালের মার্চের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে নতুন করে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে না।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্দেশ্যে ২০১২ সালে রামপালে বিপিডিবি ১ হাজার ৮৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ করেছিল।

ওই জমির একটি অংশে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানির মৈত্রী সুপার থার্মাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে।

অবশিষ্ট ব্লক-বি এলাকায় জমি উন্নয়ন ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এই এলাকাতেই নতুন সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় ন্যূনতম ৬৪০ ওয়াট পিক ক্ষমতাসম্পন্ন সৌর প্যানেল বসানো হবে। পাশাপাশি ৩৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্রিড-টাইড ইনভার্টার ও একটি পুলিং সাবস্টেশন স্থাপন করা হবে।

কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ডাবল সার্কিট ২৩০ কেভি সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হবে।

এ ছাড়া উপকেন্দ্রে দুটি ২৩০ কেভি বে স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ডরমিটরি, রেস্টহাউস ও মসজিদ নির্মাণের পাশাপাশি তিনতলা একটি নিয়ন্ত্রণ ভবন তৈরির প্রস্তাব রয়েছে।

প্রকল্পের কারিগরি ও অন্যান্য কাজে দেশীয় পরামর্শক নিয়োগের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু হলে জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়বে।

এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে অবদান রাখার আশা করা হচ্ছে।

এদিকে একনেকের একই সভায় বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ২ হাজার ৭৬৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ কেনার একটি প্রকল্পও অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে।

এতে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৮১১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা এবং এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (AIIB) প্রকল্প ঋণ হিসেবে ১ হাজার ৯৫৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।

সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাতটি প্রকল্পের পাশাপাশি নৌপরিবহন, পররাষ্ট্র এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পও অনুমোদনের জন্য তোলা হয়।

প্রস্তাবিত ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে ১০টি নতুন, দুটি সংশোধিত এবং একটি প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

এসআর

সম্পর্কিত খবর