তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে পুনর্বহালের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ব্যবস্থা পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও জনগণের মতামত নেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জাতীয় সংসদে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারের প্রতিনিধি ও ‘জুলাই যোদ্ধা’দের সঙ্গে সংবিধান সংশোধনবিষয়ক বিশেষ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানের যেসব মৌলিক বিষয়ে পরিবর্তন আনা হবে, সেগুলোর ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের আগে সাংবিধানিক গণভোটের প্রয়োজন হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতে যে গণভোট হয়েছে এবং সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে যে গণভোটের কথা বলা হচ্ছে—দুটির আইনি ভিত্তি এক নয়।
মন্ত্রী জানান, প্রস্তাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির মতো মৌলিক বিষয় ছাড়াও সংবিধানের ৪৮ ও ৫৬ অনুচ্ছেদে পরিবর্তনের প্রস্তাব থাকতে পারে। এর সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের বিষয়টিও সংশোধিত কাঠামোয় যুক্ত করা হবে।
গণভোটের বিধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ থেকে গণভোটের ব্যবস্থা বাদ দেওয়া হয়েছিল। তবে আদালত ওই বাতিলের সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করায় আগের বিধান পুনঃস্থাপনের পথ তৈরি হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে ‘ডকট্রিন অব ইক্লিপস’-এর বিষয়টিও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার ব্যাখ্যা, কোনো সাংবিধানিক বিধানকে পরবর্তী কোনো সংশোধনের মাধ্যমে পরিবর্তন করা হলেও আদালত সেই সংশোধনকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করলে আগের বিধানের কার্যকারিতা নিয়ে সাংবিধানিক প্রশ্ন তৈরি হয়। এ বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংবিধানের সংশোধিত রূপে স্পষ্ট করা হবে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের পর যাতে ভবিষ্যতে সহজে তা পরিবর্তন করা না যায়, সে বিষয়েও সুরক্ষা রাখার কথা জানান তিনি। তার মতে, ভবিষ্যতে কেউ এই ব্যবস্থা পরিবর্তনের উদ্যোগ নিলে জনগণের অনুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকা উচিত।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সংবিধানের প্রস্তাবনা, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি ও অন্যান্য মৌলিক বিষয়ে পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোটের প্রয়োজনীয়তা সংবিধানে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে। একই সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার ক্ষেত্রেও এমন সাংবিধানিক সুরক্ষা রাখা হবে, যাতে ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে জনগণের কাছে যেতে হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ১৪২ অনুচ্ছেদে গণভোটের বিধান যুক্ত হয়েছিল। ২০১১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তা বাতিল করা হয়। একই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাও বাদ দেওয়া হয়েছিল।
এরপর ২০২৬ সালের ৯ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পঞ্চদশ সংশোধনীর গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রাখেন। এর ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা এবং গণভোটের বিধান পুনর্বহালের বিষয়টি নতুন করে সাংবিধানিক আলোচনায় আসে।
আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর আইন মন্ত্রণালয় সংবিধানের সংশোধিত পাঠ প্রকাশ করবে বলে জানা গেছে। সেখানে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাদ পড়া গণভোটের বিধান এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারসংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পুনঃস্থাপনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
এসআর