ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের একটি বাথরুম থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মরদেহ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টা আগে হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স রুমের দ্বিতীয় গেটের সামনে রক্তমাখা একটি ছুরি এবং রক্তের দাগ পাওয়ার তথ্যও সামনে এসেছে। এ কারণে নারীর মৃত্যুর ঘটনাটি স্বাভাবিক নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল ১০টার দিকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী মাহমুদ শেখ বাথরুম পরিষ্কার করতে যান। নিয়ম অনুযায়ী তিনি প্রতিটি কক্ষের দরজায় নক করে ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের বের হওয়ার অনুরোধ করেন। তবে ৪ নম্বর কক্ষের দরজায় একাধিকবার নক করেও কোনো সাড়া পাননি তিনি।
বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে মাহমুদ তার সহকর্মী রাসেল ও কামালকে ডেকে আনেন। পরে দরজা খুলে ভেতরে ওই নারীকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা। খবর দেওয়া হয় হাসপাতালের আনসার সদস্য ও কর্তৃপক্ষকে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
মাহমুদ শেখ জানান, কক্ষটির দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। ভেতরে ওই নারীকে পড়ে থাকতে দেখে তারা দ্রুত বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানান।
মরদেহ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টা আগে ভোরে হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকের কনফারেন্স রুমের দ্বিতীয় গেটের সামনে রক্তমাখা একটি কালো স্টিলের ফল কাটার ছুরি পড়ে থাকতে দেখা যায়। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাশী সন্তোষ সেটি দেখতে পান।
তার ভাষ্য, ছুরিটিতে রক্ত দেখতে পেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে তিনি ওই স্থান পরিষ্কার করেন। পরে ছুরিটি ধুয়ে নিজের কাছে রাখেন। কয়েক ঘণ্টা পর হাসপাতালের একটি বাথরুমে নারীর মরদেহ উদ্ধারের খবর পান তিনি।
ঢামেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. শায়লা ফেরদৌস আহসান বলেন, সকালে হাসপাতালে পৌঁছে বাথরুমে মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি জানতে পারেন তিনি। পরে কনফারেন্স রুমের সামনে রক্তের দাগ ও ছুরি পাওয়ার তথ্যও তার নজরে আসে।
তিনি জানান, কনফারেন্স রুমের দ্বিতীয় গেটের সামনে ফোঁটা ফোঁটা রক্তের চিহ্ন ছিল। হাসপাতালের ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করলে ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে ঘটনাস্থলে সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিট ও পুলিশের সদস্যরা কাজ করছেন। তারা মরদেহ এবং আশপাশের বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন।
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মরদেহের অবস্থান, আঘাতের চিহ্ন, ঘটনাস্থলের আলামত এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
মরদেহের সঙ্গে থাকা ব্যাগ থেকে একটি ব্যাংক-সংক্রান্ত কাগজ পাওয়া গেছে। সেখানে ‘তন্ময় মণ্ডল’ নামটি উল্লেখ রয়েছে। ওই কাগজের সূত্র ধরে নারীর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছে পুলিশ।
প্রাথমিকভাবে পুলিশের কাছে নারীর নাম ‘ঝুমা রানী দে’ বলে তথ্য এসেছে। তবে তার পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিট এসে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।
তিনি বলেন, নারীর ব্যাগ থেকে একটি চিরকুট ও ব্যাংক-সংক্রান্ত কাগজ পাওয়া গেছে, যেখানে তন্ময় মণ্ডল নামটি রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঝুমা রানী দে নামটি পাওয়া গেলেও পরিচয় নিশ্চিত করতে আরও যাচাই চলছে।
তন্ময় মণ্ডল নামে কেউ আটক আছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, এ নামে কাউকে তাদের থানায় আটক করা হয়নি।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির পরই ওই নারীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।
এসআর