[email protected] সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

পরিকল্পিত নগরায়নে সব সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৪ অক্টোবর ২০২৬ ৮:৫৯ পিএম

সংগৃহীত ছবি

দেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় পরিকল্পিত নগরায়নের জন্য মাস্টারপ্ল্যান তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

নিরাপদ, সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক, জলবায়ু সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তোলার পাশাপাশি নাগরিকদের জন্য পর্যাপ্ত ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

 

বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে শনিবার (৪ অক্টোবর) দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আগামীকাল সোমবার দিবসটি পালিত হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্রুত নগরায়ন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি

এবং আবাসনের চাহিদা বাড়ার বাস্তবতায় এ বছরের ‘সবার জন্য পর্যাপ্ত আবাসন’ প্রতিপাদ্যটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব আবাসনের পাশাপাশি পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার।

 

তিনি জানান, আবাসন, নগর পরিকল্পনা, নাগরিক সেবা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু সহনশীলতাকে একই কাঠামোর মধ্যে এনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নিম্ন আয়ের মানুষ ও বস্তিবাসীর আবাসন সমস্যার সমাধান এবং আঞ্চলিকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ নগর উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহর দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও অপরিকল্পিত নগরায়ন, যানজট, পরিবেশদূষণ, নাগরিক সেবার ঘাটতি, আবাসন সংকট ও জলবায়ুজনিত অভিবাসন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে পরিকল্পিত নগরায়ন, সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং নিম্ন আয়ের পরিবার ও বস্তিবাসীর জন্য সাশ্রয়ী আবাসনের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, বস্তিবাসীদের আবাসনের মালিকানা অর্জনের সুযোগ তৈরি এবং পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের বিষয়টিও সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে। ‘সবার জন্য বাসস্থান’ বলতে শুধু ঘর নয়, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধার সমন্বিত নিশ্চয়তাকে বোঝানো হচ্ছে।

 

পরিকল্পিত নগর উন্নয়নের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, এসব উদ্যোগ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার ১১ নম্বর লক্ষ্য অর্জনেও সহায়ক হবে।

 

তারেক রহমান বলেন, টেকসই আবাসন ও নগরায়ন বাস্তবায়নে সরকার একা নয়; বেসরকারি খাত, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, এনজিও, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

 

সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে শহর ও গ্রাম নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষ নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসন, প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা এবং সুস্থ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে বসবাসের সুযোগ পাবেন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

এসআর

সম্পর্কিত খবর