এলপিজির পর এবার যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
রোববার (৪ অক্টোবর) অটোগ্যাসের নতুন মূল্য ঘোষণা করে বিইআরসি। এতে প্রতি লিটারের দাম ৭৩ টাকা ৯ পয়সা থেকে বেড়ে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।
এর আগে একই দিনে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দামও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জানানো হয়। নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা করা হয়েছে। এর আগের মাস সেপ্টেম্বরে একই সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
এদিকে এলপিজির খুচরা বাজারে মূল্য ও সরবরাহ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত মূল্যের বাইরে বেশি দামে বিক্রি এবং বিধিবহির্ভূতভাবে এলপিজি মজুতের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলওএবি)।
১ অক্টোবর এলওএবির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হকের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে এলপিজির সরবরাহ বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে দেশে প্রায় ১ দশমিক ৫৬ লাখ টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। এর আগের মাস আগস্টে আমদানি করা হয়েছিল প্রায় ১ দশমিক ৫৮ লাখ টন। ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ পর্যাপ্ত বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
এলওএবি আরও জানায়, ২৮ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এবং এলওএবি নেতাদের অংশগ্রহণে এলপিজির সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক হয়। সেখানে দেশের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সংগঠনটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার পরও কোনো অপারেটর, পরিবেশক, ডিলার বা খুচরা বিক্রেতা বিইআরসির নির্ধারিত দামের বেশি মূল্যে এলপিজি বিক্রি করলে কিংবা অবৈধভাবে মজুত করলে তা আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর এক অনলাইন বৈঠকে জ্বালানিমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের এলপিজির বাজার পরিস্থিতি নিয়মিত ও কঠোরভাবে তদারকির নির্দেশ দেন। পরে এলওএবি তাদের সদস্য প্রতিষ্ঠান, পরিবেশক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের বিইআরসি নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রির নির্দেশনা দেয়।
ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছে এলওএবি।
এসআর