সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েও স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় নিয়োগপত্র পাননি ঝিনাইদহের মিশন আচার্য।
রোববার (৪ অক্টোবর) মিশন আচার্যকে সঙ্গে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) মো. রাশেদ খাঁন। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে মিশনের নিয়োগের ব্যবস্থা চূড়ান্ত করা হয় বলে জানান তিনি।
এর আগে ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫’-এ সফল হলেও নিয়োগপত্র না পাওয়ার বিষয়টি সামনে আনেন মিশন। তার অভিযোগ ছিল, স্থায়ী বসতভিটা না থাকায় নিয়োগের তালিকায় নাম থাকার পরও তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্টদের নজরে আসে।
রাশেদ খাঁনের দেওয়া তথ্যমতে, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কলাবাগান এলাকায় জন্মের পর থেকেই মিশন বসবাস করছেন। বর্তমানে তিনি ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। ছোটবেলাতেই বাবাকে হারানো মিশনকে তার মা কষ্ট করে পড়াশোনা করিয়েছেন। পরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করেন তিনি।
মিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, উপজেলা পর্যায়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে তিনি ১৭তম হন। মোট ১৮২ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হলেও ১৮০ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। বাকি দুজনের একজনের বিরুদ্ধে মামলা থাকায় এবং অন্যজন স্থায়ী ঠিকানার জটিলতায় নিয়োগ থেকে বাদ পড়েন।
প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও জেলা প্রশাসনের দপ্তরে খোঁজ নিয়ে নিজের নামে স্থায়ী ঠিকানা পাওয়া যায়নি বলে তাকে জানানো হয়েছিল বলে দাবি করেন মিশন। তার কোনো নিজস্ব বসতভিটা নেই এবং বাবার ঠিকানাও তিনি ব্যবহার করতে পারেননি। ফলে মায়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া বাসাতেই বসবাস করে আসছেন।
মিশনের পরিস্থিতি বিবেচনায় মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিধি অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করেছিলেন রাশেদ খাঁন। শেষ পর্যন্ত মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ায় দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটতে যাচ্ছে মিশন আচার্যের। এখন আনুষ্ঠানিক নিয়োগপত্র পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।
এসআর