[email protected] রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

নিম্নমানের পাঠ্যবই সরবরাহকারীদের শাস্তির আওতায় আনা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩ অক্টোবর ২০২৬ ৮:১৯ পিএম

সংগৃহীত ছবি

পাঠ্যবইয়ের মান নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

নিম্নমানের বই সরবরাহের সঙ্গে যারা জড়িত, তদন্তের মাধ্যমে তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

 

শনিবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ঢাকাস্থ কচুয়া উপজেলা সমিতি আয়োজিত ‘কচুয়ার উন্নয়নে জনমনের ভাবনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

 

পাঠ্যবইয়ের কাগজ, কালি, ছাপার প্রযুক্তি ও মুদ্রণপ্রক্রিয়ার প্রতিটি পর্যায়ে গুণগত মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে মানহীন হিসেবে শনাক্ত হওয়া কিছু বই বাতিল করে নষ্ট করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের বই সরবরাহের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

দেশীয় মুদ্রণশিল্পকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এবার বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানকে পাঠ্যবই ছাপার দায়িত্ব দেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য, অতীতেও নির্ধারিত সময়ে মানসম্মত বই ছাপানো সম্ভব হয়েছে এবং সামনেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা থাকবে।

 

শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে ১৫০টি উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘মিড ডে মিল’ কর্মসূচি চালু রয়েছে। পর্যায়ক্রমে কর্মসূচিটি সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। খাবারের মান নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের কুপনের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের ক্যান্টিন থেকে খাবার নেওয়ার ব্যবস্থা চালুর চিন্তাও করা হচ্ছে।

 

খাদ্যতালিকায় নতুন খাবার যুক্ত করার পাশাপাশি স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করে খাবার সরবরাহ ব্যবস্থাকে বিকেন্দ্রীকরণের পরিকল্পনা রয়েছে। শুরুতে কয়েকটি জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এটি চালু করে পরে দেশব্যাপী বাস্তবায়নের কথা জানান তিনি।

 

মন্ত্রী বলেন, চতুর্থ শ্রেণিতে স্পোর্টস ও কালচারাল বই যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন সিলেবাস তৈরির কাজ চলছে। দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে প্রতিটি উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এসব প্রতিষ্ঠানে তৃতীয় ভাষা চালুর উদ্যোগ থাকবে।

 

সৌদি আরবেও টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

 

পরীক্ষা ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি জানান, ভবিষ্যতে প্রশ্নপত্রের দুটি সেট পৃথক দুটি স্থানে প্রস্তুত করা হবে। এর একটি বিজি প্রেস এবং অন্যটি আর্মি সিকিউরিটি প্রেসে করার পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের সময়ের ক্ষতি এড়াতে নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষা নেওয়া হবে এবং বর্ষাকালের দুর্যোগের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হবে।

 

খাতা পুনর্মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশকে শিক্ষা হাব হিসেবে গড়ে তুলতে ‘ক্রস বর্ডার এডুকেশন সিস্টেম’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

 

আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে শীর্ষ ৫০০-এর মধ্যে থাকা বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে শাখা স্থাপন করতে চাইলে অনুমোদনের সুযোগ তৈরি করতে বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

 

অনুষ্ঠানে কচুয়ার শিক্ষা ও সামগ্রিক উন্নয়নে সবাইকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে কারিগরি ও উৎপাদনমুখী শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে। কচুয়ার বিভিন্ন খাতের উন্নয়নে ‘শেডো মিনিস্টার’ ও কমিটি গঠনের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি।

 

জাহাঙ্গীর আলম প্রধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট নাজমুন নাহার বেবিসহ কচুয়ার বিশিষ্ট ব্যক্তি, শিক্ষাবিদ, কর্মকর্তা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে কচুয়ার কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

এসআর

সম্পর্কিত খবর