[email protected] শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

কানাডায় সম্পদের পাহাড় সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২ অক্টোবর ২০২৬ ১২:২৬ পিএম

সংগৃহীত ছবি

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নুর ইসলাম ও তাঁর পরিবারের কানাডায়

 ব্যবসা, অঢেল সম্পদ এবং সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের বিস্তৃত তথ্য পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) এবং আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট। প্রায় এক দশকের তথ্য বিশ্লেষণ করে কানাডায় তাঁদের একাধিক কোম্পানি, ব্যাংক হিসাব ও বিনিয়োগের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

​গোয়েন্দা সূত্রের তথ্যমতে, ২০১২ সালের ২৬ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত শেখ নুর ইসলাম ও তাঁর পরিবারের আর্থিক লেনদেনের ওপর মোট ১৬৩টি প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়। এসব নথিতে ১৭টি সন্দেহজনক লেনদেন, সন্দেহজনক লেনদেনের চেষ্টার ২টি ঘটনা, বড় অঙ্কের নগদ লেনদেনের ১১৮টি নথি, ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের ২৬টি এবং আন্তঃদেশীয় লেনদেনের ২টি প্রতিবেদন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

​নথিতে শেখ নুর ইসলাম, তাঁর স্ত্রী শীলা ইসলাম এবং দুই কন্যা দিশা ইসলাম (সালমান মুক্তাদিরের স্ত্রী) ও তাসনিম ইসলামের নাম ও কানাডার নাগরিকত্বের তথ্য রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, পরিবারের সদস্যরা ‘শেখ নুর ম্যানেজমেন্ট ইনকর্পোরেটেড’-এর পরিচালক এবং শেখ নুর ইসলাম নিজে ‘১৭৭১০৬৯ অন্টারিও ইনকর্পোরেটেড’-এর পরিচালক ও প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর পেশা হিসেবে রিয়েল এস্টেট ব্যবস্থাপনা এবং ‘জুম জুম পিৎজা’ রেস্তোরাঁর মালিকানার কথা উল্লেখ আছে।

​অন্যদিকে, শীলা ইসলাম ‘ডমিনোজ পিৎজা’র ব্যবসা ও ব্যবস্থাপনার সাথে যুক্ত। সালমান মুক্তাদিরের স্ত্রী দিশা ইসলাম কানাডার সান লাইফে বিনিয়োগ পরামর্শক ও সেগ্রিগেটেড ফান্ড বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত এবং তিনি ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর বোন তাসনিম ইসলামও কানাডার নাগরিক ও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিবারটির সর্বমোট আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ ৮৯ হাজার ৬২৯ কানাডিয়ান ডলার, যার সাথে ব্রিটিশ পাউন্ড, সিঙ্গাপুর ডলার, থাই বাথ ও মার্কিন ডলারের লেনদেন জড়িত।

​কানাডায় তাঁদের ব্যক্তিগত, যৌথ ও প্রাতিষ্ঠানিক একাধিক ব্যাংক হিসাব ছাড়াও শীলা ইসলামের নামে একটি মর্টগেজ হিসাব রয়েছে। বাংলাদেশের কর নথিতে ২০২৩-২৪ করবর্ষে শেখ নুর ইসলামের প্রদর্শিত সম্পদ ছিল প্রায় ১৪ কোটি টাকা, যা পরের করবর্ষেই লাফিয়ে দাঁড়ায় প্রায় ১০৪ কোটি টাকায়। এর মধ্যে প্রায় ৯৫ কোটি টাকা রেমিট্যান্স হিসেবে দেখানো হয়। তাঁর নামে বর্ষা মানি চেঞ্জিং সেন্টার, বর্ষা ডেইরি ফার্ম, বর্ষা ফিশারিজসহ ডমিনোজ পিৎজা, ফুওয়াং বোলিং, ইস্টার্ন হোটেল অ্যান্ড বার, রেডিও মাসালা, স্পাইস টেলিভিশন, স্টারবাকস ক্যাফে ও টিম হর্টনসে পরিচালক পদের তথ্য পাওয়া যায়।

​তবে বাংলাদেশের কর নথিতে তাঁদের কানাডার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানসমূহ, গুলশানের ‘টস বন্ড’ ওয়্যারহাউস কিংবা কানাডার নাগরিকত্বের কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) গভীর রাতে অননুমোদিত ওয়্যারহাউসে শুল্কমুক্ত মদ রাখার অভিযোগে শেখ নুর ইসলামের ৪টি ওয়্যারহাউস সিলগালা করেছে যৌথ বাহিনী। সম্প্রতি ঢাকার দক্ষিণ মানিকদীতে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনার পর তাঁদের আর্থিক বিষয়গুলো প্রকাশ্যে এলেও, এনবিআর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে কানাডায় অর্থ পাচার ও লেনদেনের এই তদন্তটি ওই ঘটনার পূর্ব থেকেই চলমান রয়েছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর