[email protected] শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

রোজার আগেই ২ হাজার ইউপি নির্বাচন করতে চায় ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১ অক্টোবর ২০২৬ ৯:৫৭ পিএম

সংগৃহীত ছবি

আগামী বছরের শুরু থেকে ধাপে ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে প্রথম ধাপের ভোট শুরু করে রমজানের আগে প্রায় ২ হাজার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন শেষ করার চিন্তা করছে কমিশন।

 

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এক সাক্ষাৎকারে জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ভোট শুরু করা গেলে তার প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন আগে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।

 

তিনি বলেন, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা থাকায় শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে বছরের শুরুতে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে।

ইসি মাছউদ বলেন, ইউপি নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে। নির্বাচন একটি চলমান প্রক্রিয়া হওয়ায় প্রয়োজন অনুযায়ী আরও প্রস্তুতি নেওয়া হবে। রমজানের আগে কয়েকটি ধাপে নির্বাচন আয়োজনের পাশাপাশি রমজান শেষে পরিস্থিতি বিবেচনা করে আবার ভোট শুরু করে জুনের মধ্যে সব ইউপি নির্বাচন শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

রমজানের পর এসএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকায় ওই সময়ের নির্বাচন নিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

 

স্থানীয় সরকারের অন্যান্য নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইউপি নির্বাচন শেষ করার পর পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকারের অন্যান্য নির্বাচন পর্যায়ক্রমে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

 

নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন উল্লেখ করে ইসি মাছউদ বলেন, সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই নির্বাচন আয়োজনের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।

 

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে কমিশনকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। তাই স্বাভাবিক পরিস্থিতি ধরে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রথম ধাপের ভোটের পর প্রয়োজন দেখা দিলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে।

 

এদিকে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, দেশের ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ২৭২টির নির্বাচন আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়োজনের প্রয়োজন রয়েছে। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি জানান, আগামী ৬ জুনের মধ্যে ইউপি নির্বাচন শেষ করতে চায় কমিশন।

 

নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকারও জানিয়েছেন, জানুয়ারি থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, আগামী ৬ জুনের মধ্যে ইউপি নির্বাচন শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে একটি সময়সূচি নির্ধারণের কাজ চলছে। মামলা-মোকদ্দমা নিষ্পত্তি হলে নির্বাচনের আওতাধীন ইউনিয়নের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

 

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রায় ৫ হাজার ইউনিয়ন পরিষদকে কয়েক ধাপে নির্বাচন করতে হলে প্রতিটি ধাপেই বিপুলসংখ্যক ইউনিয়ন থাকবে। ডিসেম্বরের মধ্যে পরীক্ষা শেষ হলে জানুয়ারি থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছেন।

 

এদিকে সম্প্রতি ‘ইউনিয়ন পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা, ২০২৬’-এর গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত ২৫ হাজার টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনি ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা ১০ লাখ টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর জন্য ২ লাখ টাকা করা হয়েছে।

 

এ ছাড়া নির্বাচনি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের হুমকি, ভয়ভীতি দেখানো বা কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর