ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট উন্নয়ন প্রকল্পের লাইন-১ ও লাইন-৫-এর বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকার ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
লাইন-১-এর সিপি-০৬ প্যাকেজের আওতায় বাড্ডা স্টেশনের উত্তর প্রান্ত থেকে বিমানবন্দর স্টেশন পর্যন্ত ৫ দশমিক ১৮২ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ পথ নির্মাণ করা হবে।
এর মধ্যে দুটি সুড়ঙ্গের মোট দৈর্ঘ্য ৪ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। এ অংশে বিমানবন্দর, বিমানবন্দর টার্মিনাল-৩ ও খিলক্ষেত—এই তিনটি ভূগর্ভস্থ স্টেশন থাকবে।
টানেল বোরিং মেশিন (টিবিএম) ব্যবহারের জন্য শ্যাফটও নির্মাণ করা হবে।
ভ্যাট ও করসহ এ প্যাকেজে ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ হাজার ৫৯০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। প্রাক্-যোগ্যতা অর্জনকারী সাতটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দুটি দরপ্রস্তাব জমা দেয় এবং উভয়টিই কারিগরিভাবে গ্রহণযোগ্য হয়।
পরে জাপানের নিশিমাতসু, টিপিএল ও টোডার যৌথ উদ্যোগকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়। তবে তাদের প্রস্তাবিত দর ভ্যাট ও কর বাদে সরকারি প্রাক্কলিত মূল্যের চেয়ে ৩২ দশমিক ০৫ শতাংশ বেশি।
সিপি-০৯ প্যাকেজে লাইন-১-এর ট্র্যাক নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহের বিভিন্ন অবকাঠামো স্থাপন করা হবে।
এর মধ্যে রেল, টার্নআউট, পয়েন্ট ও ক্রসিং, ১৩২ কেভি প্রাথমিক ফিডার, রিসিভিং ও সহায়ক উপকেন্দ্র, ৩৩/০.৪১৫ কেভি বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা এবং ১ হাজার ৫০০ ভোল্টের ওভারহেড বিদ্যুৎ ব্যবস্থা রয়েছে।
প্যাকেজটির ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ হাজার ৬৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। প্রাক্-যোগ্যতা পাওয়া দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি দরপ্রস্তাব জমা দেয়।
ভারতের লারসেন অ্যান্ড টুব্রো ও সুমিতোমোর যৌথ উদ্যোগকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের প্রস্তাবিত দর সরকারি প্রাক্কলনের চেয়ে ৪৯ দশমিক ৯২ শতাংশ বেশি।
অন্যদিকে সিপি-১০ প্যাকেজে থাকবে মেট্রোরেলের সংকেত ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা, প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা।
যোগাযোগভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় ট্রেন নিয়ন্ত্রণ, অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক এবং এলটিইভিত্তিক বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থাও এর আওতায় থাকবে।
এ প্যাকেজে ব্যয় হবে ৬ হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। ভারতের লারসেন অ্যান্ড টুব্রোকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দর সরকারি প্রাক্কলনের তুলনায় ৫০ দশমিক ৮৯ শতাংশ বেশি।
লাইন-১-এর সিপি-০২ প্যাকেজের আওতায় ডিপোর ওয়ার্কশপ, স্টাবিলিং শেড, অপারেশন ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, কারিগরি ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, বিভিন্ন উপকেন্দ্র এবং ট্র্যাক নির্মাণ করা হবে।
ভ্যাট ও করসহ এ কাজে ব্যয় হবে ৪ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা। সিনোহাইড্রো ও এসইবিসিএলের যৌথ উদ্যোগকে কাজটি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
লাইন-৫-এর সিপি-০৩ প্যাকেজে হেমায়েতপুর থেকে আমিনবাজার পর্যন্ত ৫ দশমিক ৬ কিলোমিটার এবং নতুনবাজারের পর থেকে ভাটারা পর্যন্ত ০ দশমিক ৯ কিলোমিটারসহ মোট ৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার উড়ালপথ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
হেমায়েতপুর, বলিয়ারপুর, বিলামালিয়া, আমিনবাজার ও ভাটারায় পাঁচটি উড়ালস্টেশনও নির্মাণ করা হবে।
এ প্যাকেজে ব্যয় হবে ২ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা। চীনের সিআরইসি, এমআইএল ও এমবিইএলের যৌথ উদ্যোগকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে।
তাদের দর সরকারি প্রাক্কলনের তুলনায় ০ দশমিক ৬৯ শতাংশ বেশি।
লাইন-১-এর সিপি-০৪ প্যাকেজের আওতায় রামপুরা স্টেশনের উত্তর প্রান্ত থেকে নতুনবাজার স্টেশন পর্যন্ত মূল লাইন ও স্টেশন নির্মাণ করা হবে।
এ কাজের মূল চুক্তিমূল্য ১৮ হাজার ৩৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা। জাপানের টোকিউ-মিল যৌথ উদ্যোগকে দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে।
সিপি-০৭ প্যাকেজে ট্রানজিশন থেকে বালু নদের শুরু পর্যন্ত ৫ দশমিক ০০৭ কিলোমিটার মূল লাইন ও স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ কাজের মূল চুক্তিমূল্য ২ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা। সিআরইসি-মিল-এমবিইসি যৌথ উদ্যোগকে কাজ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
এ ছাড়া লাইন-৫ উত্তর রুটের সিপি-০২ প্যাকেজে ডিপোর পূর্ত ও ভবন নির্মাণ করা হবে।
এর মূল চুক্তিমূল্য ১ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা। কনকর্ড প্রগতি কনসোর্টিয়াম ও হ্যানিল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশনের যৌথ উদ্যোগকে দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে।
জানা গেছে, লাইন-১ ও লাইন-৫—উভয় প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত প্রকল্প গত ১৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেয়েছে।
প্রকল্প দুটির বাস্তবায়নকাল ২০১৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত।
মেট্রোরেল লাইন-৫ গাবতলী থেকে শুরু হয়ে টেকনিক্যাল মোড়, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজ গেট, আসাদ গেট, শুক্রাবাদ, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও, আফতাবনগর, আফতাবনগর সেন্টার, আফতাবনগর পূর্ব ও নাসিরাবাদ হয়ে দাসেরকান্দি পর্যন্ত যাওয়ার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে লাইন-১ দুটি রুটে নির্মাণ করা হচ্ছে। এর একটি বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর এবং অন্যটি নতুনবাজার থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত বিস্তৃত।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন করছে। বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) যৌথভাবে এসব প্রকল্পে অর্থায়ন করছে।
এসআর