[email protected] শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

মেট্রোরেলের দুই লাইনে প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকার কাজ অনুমোদন

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১ অক্টোবর ২০২৬ ৮:২৪ পিএম

সংগৃহীত ছবি

ঢাকা ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট উন্নয়ন প্রকল্পের লাইন-১ ও লাইন-৫-এর বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকার ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে মেট্রোরেলের দুই প্রকল্পের মোট আটটি প্যাকেজ-সংক্রান্ত প্রস্তাব নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

এর মধ্যে লাইন-১-এর চারটি এবং লাইন-৫-এর একটি প্যাকেজের পূর্তকাজের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি লাইন-১-এর আরও দুটি এবং লাইন-৫ উত্তর রুটের একটি প্যাকেজের জন্য দরদাতা নির্বাচনের সুপারিশ করা হয়েছে।

লাইন-১-এ ১১ হাজার ৫৯০ কোটি টাকার ভূগর্ভস্থ নির্মাণ

লাইন-১-এর সিপি-০৬ প্যাকেজের আওতায় বাড্ডা স্টেশনের উত্তর প্রান্ত থেকে বিমানবন্দর স্টেশন পর্যন্ত ৫ দশমিক ১৮২ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ পথ নির্মাণ করা হবে।

এর মধ্যে দুটি সুড়ঙ্গের মোট দৈর্ঘ্য ৪ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। এ অংশে বিমানবন্দর, বিমানবন্দর টার্মিনাল-৩ ও খিলক্ষেত—এই তিনটি ভূগর্ভস্থ স্টেশন থাকবে।

টানেল বোরিং মেশিন (টিবিএম) ব্যবহারের জন্য শ্যাফটও নির্মাণ করা হবে।

ভ্যাট ও করসহ এ প্যাকেজে ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ হাজার ৫৯০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। প্রাক্-যোগ্যতা অর্জনকারী সাতটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দুটি দরপ্রস্তাব জমা দেয় এবং উভয়টিই কারিগরিভাবে গ্রহণযোগ্য হয়।

পরে জাপানের নিশিমাতসু, টিপিএল ও টোডার যৌথ উদ্যোগকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়। তবে তাদের প্রস্তাবিত দর ভ্যাট ও কর বাদে সরকারি প্রাক্কলিত মূল্যের চেয়ে ৩২ দশমিক ০৫ শতাংশ বেশি।

ট্র্যাক ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ব্যয় ১১ হাজার কোটি টাকা

সিপি-০৯ প্যাকেজে লাইন-১-এর ট্র্যাক নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহের বিভিন্ন অবকাঠামো স্থাপন করা হবে।

এর মধ্যে রেল, টার্নআউট, পয়েন্ট ও ক্রসিং, ১৩২ কেভি প্রাথমিক ফিডার, রিসিভিং ও সহায়ক উপকেন্দ্র, ৩৩/০.৪১৫ কেভি বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা এবং ১ হাজার ৫০০ ভোল্টের ওভারহেড বিদ্যুৎ ব্যবস্থা রয়েছে।

প্যাকেজটির ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ হাজার ৬৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। প্রাক্-যোগ্যতা পাওয়া দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি দরপ্রস্তাব জমা দেয়।

ভারতের লারসেন অ্যান্ড টুব্রো ও সুমিতোমোর যৌথ উদ্যোগকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের প্রস্তাবিত দর সরকারি প্রাক্কলনের চেয়ে ৪৯ দশমিক ৯২ শতাংশ বেশি।

অন্যদিকে সিপি-১০ প্যাকেজে থাকবে মেট্রোরেলের সংকেত ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা, প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা।

যোগাযোগভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় ট্রেন নিয়ন্ত্রণ, অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক এবং এলটিইভিত্তিক বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থাও এর আওতায় থাকবে।

এ প্যাকেজে ব্যয় হবে ৬ হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। ভারতের লারসেন অ্যান্ড টুব্রোকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দর সরকারি প্রাক্কলনের তুলনায় ৫০ দশমিক ৮৯ শতাংশ বেশি।

ডিপো ও উড়ালপথ নির্মাণেও বড় ব্যয়

লাইন-১-এর সিপি-০২ প্যাকেজের আওতায় ডিপোর ওয়ার্কশপ, স্টাবিলিং শেড, অপারেশন ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, কারিগরি ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, বিভিন্ন উপকেন্দ্র এবং ট্র্যাক নির্মাণ করা হবে।

ভ্যাট ও করসহ এ কাজে ব্যয় হবে ৪ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা। সিনোহাইড্রো ও এসইবিসিএলের যৌথ উদ্যোগকে কাজটি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

লাইন-৫-এর সিপি-০৩ প্যাকেজে হেমায়েতপুর থেকে আমিনবাজার পর্যন্ত ৫ দশমিক ৬ কিলোমিটার এবং নতুনবাজারের পর থেকে ভাটারা পর্যন্ত ০ দশমিক ৯ কিলোমিটারসহ মোট ৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার উড়ালপথ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

হেমায়েতপুর, বলিয়ারপুর, বিলামালিয়া, আমিনবাজার ও ভাটারায় পাঁচটি উড়ালস্টেশনও নির্মাণ করা হবে।

এ প্যাকেজে ব্যয় হবে ২ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা। চীনের সিআরইসি, এমআইএল ও এমবিইএলের যৌথ উদ্যোগকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে।

তাদের দর সরকারি প্রাক্কলনের তুলনায় ০ দশমিক ৬৯ শতাংশ বেশি।

আরও তিন প্যাকেজে দরদাতা নির্বাচনের সুপারিশ

লাইন-১-এর সিপি-০৪ প্যাকেজের আওতায় রামপুরা স্টেশনের উত্তর প্রান্ত থেকে নতুনবাজার স্টেশন পর্যন্ত মূল লাইন ও স্টেশন নির্মাণ করা হবে।

এ কাজের মূল চুক্তিমূল্য ১৮ হাজার ৩৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা। জাপানের টোকিউ-মিল যৌথ উদ্যোগকে দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে।

সিপি-০৭ প্যাকেজে ট্রানজিশন থেকে বালু নদের শুরু পর্যন্ত ৫ দশমিক ০০৭ কিলোমিটার মূল লাইন ও স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ কাজের মূল চুক্তিমূল্য ২ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা। সিআরইসি-মিল-এমবিইসি যৌথ উদ্যোগকে কাজ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া লাইন-৫ উত্তর রুটের সিপি-০২ প্যাকেজে ডিপোর পূর্ত ও ভবন নির্মাণ করা হবে।

এর মূল চুক্তিমূল্য ১ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা। কনকর্ড প্রগতি কনসোর্টিয়াম ও হ্যানিল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশনের যৌথ উদ্যোগকে দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে।

জানা গেছে, লাইন-১ ও লাইন-৫—উভয় প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত প্রকল্প গত ১৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেয়েছে।

প্রকল্প দুটির বাস্তবায়নকাল ২০১৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত।

মেট্রোরেল লাইন-৫ গাবতলী থেকে শুরু হয়ে টেকনিক্যাল মোড়, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজ গেট, আসাদ গেট, শুক্রাবাদ, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও, আফতাবনগর, আফতাবনগর সেন্টার, আফতাবনগর পূর্ব ও নাসিরাবাদ হয়ে দাসেরকান্দি পর্যন্ত যাওয়ার কথা রয়েছে।

অন্যদিকে লাইন-১ দুটি রুটে নির্মাণ করা হচ্ছে। এর একটি বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর এবং অন্যটি নতুনবাজার থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত বিস্তৃত।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন করছে। বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) যৌথভাবে এসব প্রকল্পে অর্থায়ন করছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর