দেশের মডেল মসজিদগুলোতে প্রথমবারের মতো খতিব পদ যুক্ত করার পাশাপাশি পেশ ইমাম,
মুয়াজ্জিন ও খাদিমদের মাসিক সম্মানি বাড়িয়েছে সরকার। এসব পরিবর্তন এনে সম্প্রতি ‘মডেল মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২৬’ শীর্ষক নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
গত ২০ সেপ্টেম্বর ধর্ম মন্ত্রণালয় এই নীতিমালা জারি করে, যা ২৪ সেপ্টেম্বর গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। এর মাধ্যমে পূর্বের ‘জেলা ও উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র পরিচালনা নীতিমালা, ২০২১’ বাতিল বলে গণ্য হবে।
নতুন নীতিমালায় প্রতিটি মডেল মসজিদের জন্য একজন করে খতিবের পদ যুক্ত করা হয়েছে। খতিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হবে, যেখানে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৬৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে খতিবের বেতন-ভাতা সরকার বহন করবে না; আর্থিক সক্ষমতা অনুযায়ী মসজিদ কমিটি নিজস্ব অর্থায়নে এই পদে নিয়োগ দিতে পারবে।
খতিব পদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে আলিয়া মাদরাসা থেকে কমপক্ষে দ্বিতীয় শ্রেণির কামিল অথবা স্বীকৃত কওমি মাদরাসা থেকে কমপক্ষে দ্বিতীয় শ্রেণির দাওরায়ে হাদিস ডিগ্রি থাকতে হবে। এছাড়া ইসলামি বিষয় বা আরবিতে দ্বিতীয় শ্রেণির মাস্টার্স ডিগ্রিধারীরাও আবেদন করতে পারবেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পদে ন্যূনতম পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, পেশ ইমামের মাসিক সম্মানি ১৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। একইভাবে মুয়াজ্জিনের সম্মানি ১০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১৫ হাজার টাকা এবং খাদিমের সম্মানি ৭ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার টাকা করা হয়েছে। যেসব মসজিদ কমিটির আর্থিক সক্ষমতা রয়েছে, তারা কর্মীদের জাতীয় বেতনস্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা প্রদানের সুযোগ পাবে।
কর্মীদের বয়সসীমার ক্ষেত্রে পেশ ইমাম পদে সরাসরি নিয়োগের সর্বোচ্চ বয়স ৩৫ বছর এবং মুয়াজ্জিন, খাদিম ও নিরাপত্তা প্রহরীর ক্ষেত্রে ৩২ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। ইমাম পদের জন্য দুই বছরের পূর্ব অভিজ্ঞতা চাওয়া হলেও মুয়াজ্জিন ও খাদিম পদে অভিজ্ঞতার শর্ত রাখা হয়নি। তবে সব পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, পরীক্ষা এবং বাছাই কমিটির সুপারিশ গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ব্যবস্থাপনাগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নতুন নীতিমালায় মসজিদ পরিচালনা কমিটিকে সার্বিক নির্বাহী ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আয়-ব্যয়ের নিয়মিত হিসাব রাখা, বার্ষিক নিরীক্ষা পরিচালনা এবং মসজিদের যাবতীয় আয় সাত দিনের মধ্যে ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এছাড়া কর্মরত কর্মীদের কল্যাণে প্রতি মাসের বেতন থেকে ৫ শতাংশ কেটে এবং মসজিদ তহবিল থেকে সমপরিমাণ অর্থ যোগ করে বিশেষ সঞ্চয় ফান্ড গঠনের বিধান রাখা হয়েছে, যা চাকরি শেষে শর্তসাপেক্ষে এককালীন সম্মাননা হিসেবে প্রদান করা হবে। ছুটি সংক্রান্ত নীতিমালায় কর্মীরা প্রতি মাসে সর্বোচ্চ চার দিন সাপ্তাহিক ছুটি ও বছরে ২০ দিন নৈমিত্তিক ছুটির পাশাপাশি অর্জিত ছুটি ও ছুটিকালীন সম্মানির সুবিধা পাবেন।
এসআর