ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত ছাত্রীদের জন্য সর্বজনীন উপবৃত্তি কর্মসূচি পুনরায় চালু করা সম্ভব কি না, তা যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, সর্বজনীন উপবৃত্তি চালু হলে এর জন্য কত অর্থ প্রয়োজন হবে, কতজন শিক্ষার্থী এর আওতায় আসবে, কীভাবে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা যেতে পারে এবং শিক্ষাক্ষেত্রে এর সম্ভাব্য প্রভাব কী হতে পারে এসব বিষয় বিশ্লেষণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব তৈরির বিষয়ে বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের বর্তমান কার্যক্রম, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া ঠেকাতে ট্রাস্টের ভূমিকা সম্পর্কেও প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়।
এ ছাড়া ছেলেদের পড়াশোনায় আগ্রহ বাড়াতে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে উপবৃত্তি দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে মেয়েদের জন্য চালু করা সর্বজনীন উপবৃত্তি কর্মসূচির বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হয়।
ওই কর্মসূচির ফলে মেয়েদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি, পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার প্রবণতা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছিল বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।
শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির বিষয়েও বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিশেষ করে বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল কর্মসূচি বাস্তবায়ন, খাবারের পুষ্টিগুণ, নিরাপদ খাদ্য প্রস্তুত এবং শিক্ষার্থীদের কাছে মানসম্মত খাবার পৌঁছে দেওয়ার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা খাবারের মান নিয়ে কোনো ধরনের আপস না করার নির্দেশ দেন। খাবার যেন একই সঙ্গে পুষ্টিকর, নিরাপদ ও মানসম্মত হয়, সে বিষয়ে তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
মিড-ডে মিল কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যয়, ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ এবং খাবারের মান নিয়ন্ত্রণের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দুটি সম্ভাব্য পদ্ধতি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।
এসব পদ্ধতির কার্যকারিতা ও বাস্তবায়নযোগ্যতা যাচাই করতে দুটি পৃথক জেলায় পাইলট প্রকল্প চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এসআর