[email protected] বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
৪ ভাদ্র ১৪৩৩

আরবি ভাষায় দক্ষ জনশক্তি গড়তে কম্পিটেন্সি-বেজড কারিকুলাম করছে এনএসডিএ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ আগষ্ট ২০২৬ ৯:০৯ পিএম

সংগৃহীত ছবি

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে আরবি ভাষাজ্ঞানসম্পন্ন কর্মীদের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দেশে প্রথমবারের মতো আরবি ভাষার জন্য কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড (সিএস) ও কারিকুলাম তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ)।

এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আরবি ভাষা প্রশিক্ষণে একটি নির্দিষ্ট ও অভিন্ন মানদণ্ড প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি এনএসডিএ নিবন্ধিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে দেশের নাগরিকদের মানসম্মত প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি হবে।

বিশ্বের প্রায় ৫০টি দেশে আরবি ভাষার ব্যবহার থাকায় এ ভাষায় দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

এর মধ্যে ২২টি দেশে আরবি প্রধান ভাষা এবং ২৮টি দেশে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

এ উদ্দেশ্যে প্রস্তাবিত ‘অ্যারাবিক ল্যাঙ্গুয়েজ’ কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড (সিএস) ও কোর্স অ্যাক্রিডিটেশন ডকুমেন্ট (সিএডি) নিয়ে দিনব্যাপী ভ্যালিডেশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনএসডিএর সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত কর্মশালায় আরবি ভাষা বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, প্রশিক্ষক, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন এনএসডিএর নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সরকারের সচিব ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী।

কর্মশালায় আরবি ভাষা প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা, প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু, প্রত্যাশিত শিখনফল এবং মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

একই সঙ্গে প্রস্তাবিত কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড ও কারিকুলাম সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত ও সুপারিশ সংগ্রহ করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণকে মানসম্মত, স্বীকৃত এবং কর্মসংস্থানমুখী করা জরুরি।

এ লক্ষ্যেই শিল্পখাত, একাডেমিয়া ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে আধুনিক কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড ও প্রশিক্ষণ কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে ভাষা শিক্ষা শুধু যোগাযোগের জন্য নয়; শিক্ষা, কর্মসংস্থান, অভিবাসন এবং আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার গঠনের ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব রয়েছে।

তরুণদের আরবি ভাষায় দক্ষ করে তুলতে পারলে দেশের পাশাপাশি বিদেশের শ্রমবাজারেও তাদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এনএসডিএ জানিয়েছে, কর্মশালায় পাওয়া মতামত ও সুপারিশ পর্যালোচনা করে আরবি ভাষার কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড এবং কোর্স অ্যাক্রিডিটেশন ডকুমেন্ট চূড়ান্ত করা হবে।

পরবর্তী সময়ে এনএসডিএ নিবন্ধিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত মান অনুসরণ করে আরবি ভাষার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। এর ফলে প্রশিক্ষণ, দক্ষতা যাচাই এবং সনদের স্বীকৃতির ক্ষেত্রে একটি সুসংগঠিত কাঠামো গড়ে উঠবে।

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের প্রয়োজন বিবেচনায় বিভিন্ন ভাষায় দক্ষ কর্মী তৈরির কার্যক্রমও চালিয়ে যাচ্ছে এনএসডিএ। এর আগে ইংরেজি ও জাপানি ভাষার কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড ও কারিকুলাম প্রণয়ন করা হয়েছে।

পাশাপাশি আরবির সঙ্গে চীনা, কোরিয়ান ও ইতালিয়ান ভাষার জন্যও কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড ও কারিকুলাম তৈরির কাজ চলমান রয়েছে।

কর্মশালায় এনএসডিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যাকাত ফান্ড বিভাগ ও গবেষণা বিভাগের পরিচালক ড. ওয়ালীয়ুর রহমান খান, বাংলাদেশ বেতারের বহির্বিশ্ব কার্যক্রমের প্রধান নির্বাহী ড. মোহাম্মদ এনামুল হক, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপেন স্কুলের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কুতুব উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও আরবি ভাষা বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

 

এসআর

সম্পর্কিত খবর