[email protected] বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
৪ ভাদ্র ১৪৩৩

জ্বালানি সংকট স্বাভাবিক হতে অন্তত দুই বছর লাগতে পারে: উপদেষ্টা জাহেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ আগষ্ট ২০২৬ ৮:০৬ পিএম

দেশের চলমান জ্বালানি সংকট দ্রুত নিরসন করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

দীর্ঘদিনের ঘাটতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে তৈরি হওয়া এ সংকট কাটিয়ে জ্বালানি খাতে সন্তোষজনক পরিস্থিতি ফিরতে অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ময়মনসিংহের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন মিলনায়তনে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত একটি মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রাথমিক, কারিগরি ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিভাগীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জাহেদ উর রহমান বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের মানুষ দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে এবং বিষয়টি সরকারও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

তবে বর্তমান পরিস্থিতির জন্য শুধু বর্তমান সরকারকে দায়ী করা ঠিক হবে না। দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকা ঘাটতি থেকেই সংকটের বর্তমান রূপ তৈরি হয়েছে।

তিনি জানান, দেশে গ্যাসের চাহিদার তুলনায় বর্তমানে সরবরাহে প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট ঘাটতি রয়েছে। সাম্প্রতিক একটি দুর্ঘটনার কারণে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত দুটি প্ল্যান্ট পুনরায় চালু করা গেলেও গ্যাসের ঘাটতি পুরোপুরি দূর হবে না।

সরকার সংকট মোকাবিলায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, গ্যাসিফিকেশন প্ল্যান্টের দুর্ঘটনার পর দ্রুত ব্যবস্থা হিসেবে একটি নতুন প্ল্যান্টের অর্ডার দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে আরও দুটি প্ল্যান্ট আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

একই সঙ্গে ভোলার গ্যাস মূল ভূখণ্ডে আনার সম্ভাবনা যাচাই এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির উদ্যোগ চলছে। স্থলভাগে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানের কাজও শুরু করা হয়েছে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, বিভিন্ন জরিপ ও প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী দেশের স্থলভাগে বিপুল পরিমাণ গ্যাসের সম্ভাবনা রয়েছে। সম্ভাব্য মজুতের পরিমাণ ৪০ থেকে ৫০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অথচ দেশে বছরে প্রায় ১ দশমিক ৩ থেকে ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হয়। দীর্ঘদিন স্থলভাগে পর্যাপ্ত অনুসন্ধান না হওয়ায় সম্ভাব্য মজুত কাজে লাগানো যায়নি।

তিনি আরও বলেন, নতুন করে দুটি রিগ কেনা হয়েছে এবং পুরোনো রিগগুলোও কাজে লাগানোর চেষ্টা চলছে। কয়লা নিয়েও সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের পর সুফল পেতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হবে।

জ্বালানি খাতের পরিস্থিতি কবে নাগাদ স্বাভাবিক হতে পারে— এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ভালো অবস্থানে ফিরতে অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে।

এ সময়ের মধ্যে মানুষের দুর্ভোগ কমিয়ে জীবনযাত্রা সহনীয় রাখাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তাও জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিশেষ করে এলএনজির আন্তর্জাতিক বাজার এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে অস্থিরতা তৈরি হলে জ্বালানি পরিবহন ও সরবরাহে নতুন করে চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার রাতারাতি সব সমস্যার সমাধানের দাবি করছে না। তবে দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায় এমন উদ্যোগগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে সরকারি স্থাপনাগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

দীর্ঘদিনের সমস্যার প্রভাব এখন বর্তমান সময়ে এসে পড়েছে উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, অতীতে তৈরি হওয়া অনেক সংকটের বোঝা পরবর্তী সময়ে সরকারকে বহন করতে হয়।

জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতিও দীর্ঘদিনের ঘাটতি ও সমস্যার ধারাবাহিক ফল।

এসআর

সম্পর্কিত খবর