[email protected] মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

হাসিনাকে প্রত্যর্পণে ভারতের প্রতি ঢাকার আহ্বান: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০ আগষ্ট ২০২৬ ৭:৩৫ পিএম

সংগৃহীত ফাইল

দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা।

একই সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার সন্দেহভাজনদেরও বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের বিষয়টি ভারতের সঙ্গে আলোচনায় তোলা হয়েছে।

 

সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

 

এর আগে সকাল ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় দেড় মাস পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এটি ছিল তার প্রথম বৈঠক।

 

বৈঠকের আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন এবং বাংলাদেশে আদালতের রায়ে দণ্ডিত হয়েছেন। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিতে ভারতকে অনুরোধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার আশা করছে ঢাকা।

 

ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গও বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানান খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিষয়ে ভারত সরকারের চাওয়া প্রয়োজনীয় নথিপত্র বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সরবরাহ করেছে। এখন দ্রুত তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হাদি হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তাই এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণের বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করতে ভারতকে অনুরোধ করা হয়েছে।

 

দুই দেশের সম্পর্কের বিষয়ে খলিলুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অনুকূল পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

এদিকে গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্যের বিষয়টিও বৈঠকে আলোচনায় এসেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান আগেই ভারতকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

শেখ হাসিনার ওই বক্তব্যের জন্য ভারত দুঃখ প্রকাশ করেছে কি না জানতে চাইলে খলিলুর রহমান বলেন, বিষয়টি দুঃখ প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার ভাষ্য, বাংলাদেশের একটি আদালত শেখ হাসিনাকে দণ্ড দিয়েছে এবং একজন দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করাই প্রত্যাশিত।

 

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগ, ৫ আগস্টের বক্তব্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিচার বিভাগের প্রতি অসম্মান দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে এমন বক্তব্য প্রচারের সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশ উদ্বেগ জানিয়েছে।

 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও কাঠামোর প্রতি সব দেশের সম্মান থাকা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রের কোনো স্তম্ভকে দুর্বল বা অবমূল্যায়ন করে—এমন কোনো কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি হবে না বলে তিনি আশা করছেন।

ভারতের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনায় তিনি কিছুটা আশ্বস্ত হয়েছেন বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এসআর

সম্পর্কিত খবর