রাজনৈতিক মতবিরোধ নিরসনে রাজপথে চাপ সৃষ্টি কিংবা ‘মব’ গড়ে তোলার পরিবর্তে সংসদীয় আলোচনা ও সাংবিধানিক পদ্ধতি অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণের মতামত ও আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতেই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিচালিত হয়।
তবে সেই ব্যবস্থা কার্যকর রাখতে হলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে আইন, সংবিধান ও গণতান্ত্রিক নিয়মকানুনের প্রতি শ্রদ্ধা থাকা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রকে শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য বা স্লোগানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না।
এটি মানুষের চিন্তাভাবনা, আচরণ এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত একটি সংস্কৃতি। ব্যক্তি ও রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকাণ্ডে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিফলন না থাকলে একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা কঠিন।
দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিক ও নিরবচ্ছিন্ন গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে গণতান্ত্রিক চর্চা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
পরবর্তী সময়ে খালেদা জিয়াও সেই ধারাকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কারণে সেই প্রক্রিয়া বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
আওয়ামী লীগের শাসনামলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দলটি গণতন্ত্রের কথা বললেও তাদের কর্মকাণ্ডে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়েছে।
বিশেষ করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন দীর্ঘ সময়ের শাসনে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই সরকারকে ব্যর্থ ঘোষণা করা কিংবা পদত্যাগের দাবি তোলা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা বা মতভেদ থাকতেই পারে, তবে তা গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই প্রকাশ করা উচিত।
রাজনীতিতে সহনশীলতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা।
নিজের মতের সঙ্গে অন্যের মতের মিল না থাকলেও তার বক্তব্য প্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে অসহিষ্ণুতা ও প্রতিপক্ষকে দমন করার মানসিকতা বাড়তে থাকলে গণতন্ত্রের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।
তাই গণতান্ত্রিক পরিবেশ টেকসই করতে রাজনৈতিক দল, নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সহনশীলতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বাড়ানো জরুরি।
এসআর